গুচ্ছ কবিতা — সোলেমান রাসেল



গুচ্ছ কবিতা 
সোলেমান রাসেল 

বাংলাদেশ 
বাংলাদেশ আমাদের জনমদুখি মা
যাকে দেখতে দেখতে তাঁর দুঃখ সমান বড় হলাম 
অথচ আমাদের ছোটবেলার মতন 
তাঁর দুঃখগুলো ছোট হলো না।

একদিন তাঁর কপালে লাল টিপ ছিলো
পরনে ছিলো সবুজ শাড়ি
যে শাড়ির আঁচলের নিচে 
আমাদের একটা কুঁড়েঘর ছিলো
আমরা ছিলাম তাঁর লুকিয়ে রাখা একেকটা কপালের টিপ।

বাংলাদেশ আমাদের জনমদুখি মা 
সবুজ আঁচলে ঝরে তাঁর লাল সন্তান। 

একটি খুনের আনন্দ
কারে যেন খুঁজি 
এই ভাবনার ভেতর থেকে
নিজেকে খুন করে
বার বার ঝরে যাই।

একটা পাখির মতো 
মৃত্যুর ডানার ওপর ভর করে 
এ শরীর রেখে আসি
গত জন্মের কাছে। 

একটি খুনের আনন্দে গানের আশ্রয় লাভ করি।

জীবনচাষি
জীবন ধারাপাতের চাষযোগ্য ভূমিতে
বাম্পার ফলনের আশা বুনে
বিশ্বাসের চারা লাগাই।

শিকড়সমেত ঘামসহিত সেচ দিই
ধ্যানগ্রস্ত চাষির মতো
নিজেকে উজার করে।

অন্ধস্বর 
নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলি
তছনছ করি নিজের ভেতর
তার ভেতরে উড়াল দেয় 
বাসাহীন এক অন্ধস্বর। 

তার ভেতরে ছটফট করে 
একটা গানের জীর্ণ ঢেউ 
তার ভেতরে খুঁজে বেড়াই
আমি ছাড়া এক অন্য কেউ।

জন্মদিন 
প্রতিটা জন্মদিনকে 
জীবন ডাকঘর থেকে
সাদরে গ্রহণ করি
মৃত্যুদিনের একেকটি আগাম চিঠি।

প্রাপক যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে 
প্রিয় প্রেরকের কাছে
আমিও শুকরিয়া আদায় করি 
মহান মাবুদ বরাবর। 

কুড়ি হলে ঝরে পড়তে হয়
একদিন আমাকেও পৃথিবীবৃক্ষের পাতা ঝরতে হবে 
কোন এক হেমন্ত মাঠে
ভুলে যাওয়া এমন প্রস্তুতিকে
পুনরায় পাঠ করি 
পরকাল বিশ্বাসি মৃত্যু পাঠক হিশেবে।

সবুজ কুড়ি যেমন পাঠ করে ঝরাপাতার আগাম সংবাদ~

Previous Post Next Post