গুচ্ছ কবিতা — আবু ইউসুফ



গুচ্ছ কবিতা 
আবু ইউসুফ 

বিষাদী ফুল
সন্ধ্যার স্থবিরতার আগে ফুটে উঠছে 
মায়া রঙের বিষাদী ফুল, ঈশ্বরী ও নুনের 
ছিটেফোঁটা ঘর্মাক্ত প্রেমিক।
তীক্ষ্ণ ধার নিয়ে তুমি যখন ছুঁয়ে ফেলছো
আত্মহনন বিষয়ক ঠোঁটের তিল!
ততক্ষণে তোমার পুরোনো পোশাকের গন্ধে 
ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ফেলে আসা প্রেমিকের সংগ্রাম 
ও আহাজারির সাড়ে তিন হাত অশরীরী!

মদিরার মাতাল নৃত্য
তুমি এলেই ঘর বদলে যায়,
কান্না বদলে রক্ত হয়, চুমু বদলে আঘাত!
তোমার বুকের ওপর ভোর উঠে,
আর আমি মেঝেতে শুয়ে চেয়ে থাকি সেই সূর্যোদয়ের দিকে।
তুমি যখন চুল খুলে দাও,
আমার ভিতরে জেগে ওঠে শরীরী কোনো ঈশ্বরী—
যার প্রতিমা গড়া হয় তোমার ঘামে, দাগে, গভীর ক্লান্তিতে।
তোমার স্তনের পাশে মাথা রাখলে শুনি ইতিহাসের কান্না,
আর বুকে নামলে মুখ, পাই
সৃষ্টির আগের সেই শব্দহীন বিস্ফোরণের মতো নিঃশব্দ উত্তাপ।
তুমি এক রাত্রির রূপক,
যাকে পেতে গেলে প্রাণের ঘর ভাঙে।
আর হৃদয়ে জাগে, মদিরার মাতাল নৃত্য!

ছায়াহীন নদী
মনে হয় আমিও চাই,
সমস্ত জীবনের দ্বিপ্রহর কাটিয়ে দিই—
কাউকে না বলে, কোনো পুণ্যের কাছে না গিয়ে।
পুষে রাখা ব্যথার দিকে এমন করে কেন যে তাকাই!

অথচ পুষ্পিত উপবন, 
আমার একদিনও অদেখা থাকে না,
গ্রীবা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গন্তব্য।

আহা, বিদায়ী বিতুল,
তুমি যদি ছায়াহীন নদী হতে!

বিশুদ্ধ ফুল
নিবিড় যোগাযোগের নিবেদন শেষ হলে দেখা যায়,
এত তীব্র অন্ধকার! অতৃপ্ত প্যান্ডুলামে ঝুলতে থাকে—
প্রিয় মানুষের মুখ। এসব হাহাকার কিংবা উদযাপন স্বীকার করলে 
যতটা পাপ মোচন হবার কথা, ততটাই চেপে যেতে হয় দীর্ঘশ্বাস। 

ওগো বিশুদ্ধ ইচ্ছেফুল!
নক্ষত্রের বনে হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা তোমায় কে দেয়?
Previous Post Next Post