একগুচ্ছ কবিতা
বশির আহমেদ
বশির আহমেদ
আমি নীরজ হবো
তুমি যখন নীলিমা হবে
আমি তখন পয়োদ হয়ে ঝরে যাবে পাহাড় সাদৃশ্য তুলতুলে তোমার বুকের দুই পাদদেশে,
তুমি চঞ্চল চিত্রাঙ্গীর মতো একটু ঠাঁই দিও তোমার করতলে।
আমি নীরজ হবো!
তোমার মনের হ্রদে রেখে দিও
নিটোল অনুরাগে।
অর্ণবপোত
কিছু মানুষ রাইনাইটিসের মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে অন্যের মনস্তাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
পত্রঝরা দৃশ্যাবলীর মতো নড়বড়ে
প্রতিরোধ ক্ষমতা
শিকড়হীন বৃক্ষের মতো!
যদি ঝড়ের কবলে ফুসে উঠে নদী, একমাত্র ঢেউ ভাঙ্গা অর্ণবপোত
খুঁজে পায় তটের আনন্দ!
টাইফুন
যদি হাঁটতে হাঁটতে ভুল পথে চলে যাই,
আর খানিকটা দূরে গিয়ে মনে হয় ভুলের কথা, অতঃপর আমি নতুন পথ খুঁজি।
অ্যান্টেনার মতো সংকেত আসে,
বোধের তরঙ্গে কাউয়াঠুঁটি, কুকশিমা, মরু গোলাপ।
উপায় একটি অনিবার্য শপথ,
টাইফুন মানে না!
যেই জীবন সন্ধ্যার অজুহাতে থমকে যায়, সেখানে লাভ নেই অনুবাদ করে চাঁদের ভাগ্যলিপি।
পত্রালি
জলমগ্ন ফসলের মতো তোমার ভবিষ্যৎ
তোমাকে দেখে খুব মায়া হয়, খিটখিটে মেজাজ।
তুমি বিরক্ত অভিশাপ! তুমি প্রেমহীন পাথর হৃদয়,
ড্রাগের নেশায় কেটে যায় আইভরি রাত।
তোমার স্পর্শ পেলে জ্বলসে যায় ফুলের শরীর,
তুমি জীবনের নামতা জানো না
তাহিটিয়ান ভেবে উচ্চতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিজেই নিজেকে সাজাও হীরক রাজা।
তুমি মূর্খ, দাম্ভিক,
তোমার আঙ্গিনায় বিকেলের ছায়া নেই,
কদমের প্রেম নেই ,
তোমার পায়ের শব্দ শুনে বাষ্প হয় ভোরের শিশির,
তোমার হৃদপিন্ডের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে
সজীবতা হারায় সবুজ পত্রালি।
