গুচ্ছ কবিতা — আইনাল হক


গুচ্ছ কবিতা 
আইনাল হক

আলোক রশ্মি হেঁটে যায়
একমুঠো আলো নিঃশব্দে হেঁটে যায় বুকের ভেতর
চেতনায় ঢিল ছুড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিবেক
তবুও হাভাতের মতো সে পথেই তাকিয়ে থাকি
মিষ্টি রোদ দৃষ্টি কেড়ে নেয়
মেরুন ভালোবাসা দু'হাত ভরে অবহেলা দেয়
রক্তজবার রঙিন স্বপ্ন আর
আকাশ সমান সজীব প্রত্যাশার সরল রাস্তা দেখিয়ে
হারিয়ে গেল যে আলেয়া, সে রাস্তায় আশীর্বাদ নামুক হৃদয়ের কুঞ্জবনে গড়ে উঠুক মানুষের প্রতি ভালোবাসা।

নিদারুণ পৌষের তীব্রতা
জানলো না, তার জন্য একটা মানুষ কতটা নিঃসঙ্গ
এলোমেলো বাতাসে কি নিদারুণ পৌষের তীব্রতা বহমান
হরিণী ভয় এবং অপূর্ণতা কিভাবে প্রভাবিত করছে
সে সব দুঃসংবাদে তার কোনই যায় আসে না

নিকট অতীতে চোখ পড়লে আঁতকে উঠি হামেশাই
একজন তুমি চোখের পলকে অতুমিতে পাল্টে গেল
ভোরের কুয়াশায় পা ভিজিয়ে এসেছিল যে প্রিয় অতিথি
নরম রোদের গন্ধে সে-ই হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর বিরোধী

মানুষের মন অক্টোবরের আকাশ
মানুষের মন অক্টোবরের আকাশ
এই ঝুমবৃষ্টি
এই সূর্যরশ্মির অবারিত হাতছানি
কি সৌখিন পর্যাবৃত্ত আবর্তন!
মাছরাঙার ঠোঁট জুড়ে অপেক্ষার উপাখ্যান লেখা হলে শিক্ষা নেয় না মানুষ,
লাগামহীন ছুটে চলায় তীব্রতর গোপন আকাঙ্ক্ষা।
বিক্ষিপ্ত ও অবিন্যস্ত উপাত্তের বৈশিষ্ট্যে সাজানো মন
মানসিক পরিতৃপ্তির প্রচেষ্টায় বসত গড়ে

আফসোসের নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়
হাত ফসকে পড়ে যায় হেমন্ত বিকেল
সংগ্রামের রক্ত পলাশ ভীষণ অবহেলায় ধূলোয় লুটোয়
বিপথগামী চিন্তারা বিভৎস রূপরেখার আয়োজন করে
বন্দোবস্ত হয় দুরভিসন্ধিমূলক নাটকের স্ক্রিপ্ট;
কাঁটাতারে আটকে পড়া নির্বুদ্ধিতা
আফসোসের নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় লিখতে বসে
গভীর বিস্ময় ও আতঙ্কে আপনার হাত কামড়ায়
শেষ বিকেলের আভা বাঁচিয়ে রাখে এক চিলতে আশা

একদল বেওয়ারিশ আততায়ী
আমাকে কারিগরি কৌশলে হত্যা করে
পরিচ্ছন্নভাবে চলে গেল একদল বেওয়ারিশ আততায়ী
একটু ঘুরে দাঁড়ালেই মেকআপহীন মুখ ধরা পড়তো
প্রথম যখন ছুরি চালালো
রক্তের ফিনকিতে স্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়েছে প্রান্তরে
বিষাদ বাতাসে কৃতঘ্নতা উড়িয়েছে পতাকা
উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে শেষ দৃষ্টিহীনতার আগে দেখি গুটিকতক মুখোশধারী আমার পূর্বপরিচিত

[নওগাঁ ]
Previous Post Next Post