নীলকরবী

অনন্য কাওছার 

তোমার সিদ্ধান্ত শিকারী পাখির মতো স্বজাতীয়
পাখিদের বুকে নিয়ে আসে বন্দুকের নল;
স্বেচ্ছায় আবির্ভূত মহাকালের অশনিসংকেত।
তোমার চঞ্চল্য চোখের প্রলুব্ধ ইশারায়
একদিন যে টি-স্টলে 
গানের আড্ডায় মেতে উঠতো সমগ্র আকাশ,
রাস্তার অলিগলি জুড়ে ফারসি উপদেশ
সেখানে আজ মৃতশিশুর মতো পড়ে আছে স্মৃতি;
আমাদের দুজনের সমাধিস্থ পুরাতন কণ্ঠস্বর।

তোমার প্রস্থানে কবিতার শরীরে পাললিক ছাপ;
মুখে ঘাসের মতো গজিয়েছে কার্ল-মার্ক্সীয় গোঁফ, 
যে ঠোঁটের নরোমে ছিল তোমার ভেষজ ঠোঁট
মদমত্ত ছিল তৃপ্ত সঙ্গমের মতো দীর্ঘ চুম্বন;
সেখানে আজ হাইব্রিড ঘাসের মতো জমেছে
পার্থেনিয়াম।

তোমার চলে যাওয়া পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের মতো  
বুকের ভেতর তিরিশ কোটি আবেগের লাশ।
গত শীতকালে উজ্জ্বল ছিল আমাদের আলিঙ্গন
তোমার নমনীয় আঙুলের স্পর্শ-
আজকাল সেখানে বেড়ে উঠে বিষাক্ত নীল-করবী।
তোমার স্পর্শ ছাড়া গালের দুধারে গুল্মলতা, 
ঝোপের বিস্তার।

আহা প্রেম, তোমার প্রস্থানে দুচোখের পাতা আলোহীন
প্রেমহীন ভালোবাসাহীন, অকেজো দু-হাতের তর্জনী; 
আমি পাগলের মতো এলোমেলো হয়ে পোহাই রজনী। 




 


Previous Post Next Post