অনন্য কাওছার
বিথিসা, নতুন নেশা
তোমার জন্য লেখালেখিও ছেড়ে দিচ্ছিসেলুনে কেটে নিচ্ছি এলোমেলো চুল;
গোঁফ ফেলে হয়ে গেছি মিশরী যুবক।
আজ থেকে ছেড়ে দিচ্ছি রাতজাগা
তোমার জন্য পরে নিচ্ছি টাই-সুট
ছেড়ে দিচ্ছি অহেতুক কবিতা লেখা।
যদি ভালোবাসা পাই বিথিসা-
ছোঁব না সিগারেট, মদের নেশা।
টেবিলক্লথ
যারা অকারণে ছিঁড়ে ফেলে বাগানের ফুলনির্দ্বিধায় কেটে নেয় মাঠের সবুজ
হায়, তাদের টেবিলে
প্রেমিকার প্রথম গোলাপ;
হাবুডুবু প্রেম।
যারা তোমার দিকে বাড়িয়েছে লোভাতুর হাত
বিনা চেষ্টায় পেয়ে গেছে গোপনীয় সুখ;
হায়, তারা খুব সহজে পেয়ে যায়
নারীর হৃদয়।
বিনা চেষ্টায় পেয়ে গেছে গোপনীয় সুখ;
হায়, তারা খুব সহজে পেয়ে যায়
নারীর হৃদয়।
তুমি কি এখনও ব্যস্ত আছ?
পরপর তিনটে কল করার পরও তোমার কোনো
সাড়াশব্দ নেই, সন্ধ্যা হয়ে গেল অথচ
টেক্সটের রিপ্লাই দিচ্ছ না ভাবে অবাক হইনি।
এ শহরে তোমার মতো এতোটা ব্যস্ত নয় টাউনের পার্ক;
ব্যস্ত নয় এম্বুল্যান্সের হর্ণের তীব্র আওয়াজ, টেলিফোন।
বুঝি, প্রেমিকের হাতধরে পাড়ি দিচ্ছ জেব্রা ক্রসিং
অথবা শপিং মলের তৃতীয় পর্বে খুঁজে নিচ্ছ নতুন সঙ্গী।
তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারো বলে আমি
লিখতে বসিনি কোনো সতর্কবার্তা,
উপেক্ষা করিনি তোমার
সুনিপুণ অজুহাত।
পরপর মেসেজ দিচ্ছি, চার্জিং মোবাইলের স্ক্রিনে
অপলক তাকিয়ে আছি অথচ তোমার
কোনো সাড়াশব্দ নেই।
তুমি কি এখনও, এখনও কি তুমি
যান্ত্রিক রোবটের মতো ব্যস্ত আছ?
বেনামি প্রেমিকা
তোমাকে বলা হয়নি ভালোবাসিশুধু বাতাসের মতো প্রকম্পিত দুজনের ঠোঁট;
বুকের জোছনা, বিমর্ষ দুজনের অশান্ত ফুসফুস।
আবারও মদনমোহন কলেজে দেখা হওয়ার আগে
ঠোঁট থেকে ঝরে গেছে চুম্বনের সুনিপুণ দাগ,
বার্ধক্যে পৌঁছে গেছে দুজনের শীতের ঋতু
তোমাকে বলা হয়নি ভালোবাসি
শুধু রাজহাঁসের মতো উচাটন মন, শরীর,
ঠোঁটের নরোম ক্রমাগত হয়ে যায় চৈতালিকাঠ।
তোমাকে বলা হয়নি আরেকটু
থেকে যাও-
থেকে যাও এখানেই চিরকাল
তবু নিঃশব্দে চলে যায় ট্রেন, চলে গেছ তুমি।
কবিসত্তার পরিচয়
আমি মানুষের ভেতরেও এক ভিন্ন মানুষআগুনের ভেতরেও শৈল্পিক আগুন,
আমারে কি আর বিরহে পোড়াবে তুমি?
Tags:
Poetry
