অনন্য কাওছার
তোমাকে যারা পায়নি তারাই পৃথিবীর দুর্ভাগা
ভাগ্য বিড়ম্বনা আহত মানুষ, যারা সূর্যলোক দেখে
অন্ধের মতো তাকায় আকাশের দিকে তারা মূলত
তোমার অভিশাপেই পাচ্ছে না দিনের আলোক।
যে নাবিকের ডুবে যায় পালতোলা নৌকো জাহাজ
কোনোকালে তাকে দিয়েছ তুমি ঘৃণার ঝিলিক,
এই যে বর্ষাকালেও মাঠঘাট নদীনালা জলহীন
চারিদিকে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ মহামারী-
এইসব তোমার ইচ্ছাধীন বলেই এতোটা বিপর্যয়,
এতোটাই অনুজ্জ্বল প্রেমিকের বিশুদ্ধ প্রণয়।
কেবল যারা একবার তোমাকে ছোঁয়ে দেখেছে নারী
তাদের বাড়িঘর পর্যবসিত জ্বলজ্বলে স্বর্গশহর;
যারা কল্পনার ডানায় এঁকেছিল তোমার জলছাপ
তারা অনায়সে পেয়ে গেছে রাজমুকুট রাজকীয় প্রেম;
কেবল তাদের হাতের মুঠোয় গুপ্ত দ্বীপের মণিমুক্তা।
তোমার ক্ষমতাবলে থেমে যায় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া,
আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে ছুটে আসে গণচুম্বন।
তুমি অনুর্বর জমিনে অসতর্কে রেখে গেলে
দুপায়ের ছাপ- নীলক্ষেতে বেড়ে ওঠে মাঠের সবুজ
কৃষকের ফাঁকা জমিনে আগাছা বিহীন বোরো-ধান
ফলনশীল মাঠ; এ তোমার আশীর্বাদের দৈব কেরামত।
নারী, তুমি একবার তাকালে হাসপাতালের কামরায়
বেড়ে যায় মৃত্যু শয্যা শতাধিক প্রেমিকের হৃৎস্পন্দন।
কেবল তোমার অভাবে মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি
বাজারের ফর্দ-কাগুজে পুরুষের দীর্ঘশ্বাস।
Tags:
Poetry
