অনন্য কাওছার
আমাকে ছাড়া তুমি ভালো আছ জেনে আমার ঠিক কী
করা উচিত বলে তুমি মনে করো? আমি এখন
রবিঠাকুরের মতো বাতায়নে বসি রচিব শেষের কবিতা
নাকি একগাল হেঁসে বলব, তিনকন্যা-সন্তানের জননী
তোমার মেয়েদের নাম রেখো শিউলি-বকুল-টিউলিপ।
হেসো না হেসো না, এমনটাই তো আমাদের কথা ছিল।
তুমি নিশ্চয়ই চুপিচুপি বারান্দায় বসে মেসেজ পাঠাচ্ছ
টেলিফোনে পাচ্ছ না বলে লিখেছ একাধিক চিঠি
আমি পাল্টে নিয়েছি টেলিফোন, বদলে নিয়েছি ঠিকানা
এতটুকু বুঝতেই তোমার কেটে গেল একযুগ।
আমি ভালো নেই জেনে তোমার ঠিক কী করা উচিত
বলে তুমি মনে করো, তুমি কি এখন ঘরসংসার
স্বামীসঙ্গ ছেড়ে ছুটে আসবে নিশিনীল
নাকি ডিভোর্স লেটারে সিগনেচার করতে কেঁপে উঠবে
তোমার দু-হাতের দশটা আঙুল, দেহের লোমকূপ।
আমাকে গালি দিচ্ছ বুঝি?
এইকবিতা যখন তোমার ঠিকানায় পৌঁছোবে
তখন হয়তো আমি ষাটোর্ধ বৃদ্ধ, যার হাতেপায়ে
কচুরিপানার মতো বাতাসের কাঁপন-
অথবা আমি বেঁচে নেই তোমাদের পৃথিবীতে আর
কোনোকালেই আমাদের মিলন হবে কি আবার?
Tags:
Poetry
