অনন্য কাওছার
তোমার মতো কোনো শীতল উৎসব এবং শীতল
সাগরের বরফনীল চোখ; সমগ্র পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।
নিখুঁত মানচিত্রের পরিবর্তে তোমার ছবিখানা
টাঙিয়ে নিয়েছিলাম যেইদিন তারপর থেকে পৃথিবীর
নিখুঁত মানচিত্রের পরিবর্তে তোমার ছবিখানা
টাঙিয়ে নিয়েছিলাম যেইদিন তারপর থেকে পৃথিবীর
সমস্ত অলিগলি আমার পরিচিত; মুখস্থ বাসাবাড়ির
হোল্ডিং নাম্বার, নামপরিচয়সহ সমস্ত কিছু।
তোমার মতো নন্দিত পাপড়ি, কাঁটাবিহীন গোলাপ
এমন সুনিবিড় বাগানের সন্ধান পায়নি উদ্ভিদবিজ্ঞান।
তুমি ঘর থেকে বেরোলে বাংলাদেশের মানুষ
টের পায় বসন্তঋতু, ফাগুনের প্রথম গান কেবল
তোমাকে নিয়েই লেখা হয়।
তোমার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রম এবং
জীবনযাপনের জরিপে এগিয়ে থাকা পরিবেশ
মহাবিশ্বের অন্য কোথাও নেই।
তোমাকে পেলে মানসিক রোগীও ফিরে পায়
স্বাভাবিক জীবন এবং জীবনের স্বাদ।
(আমি তেমনি একজন)
তোমার সুশৃঙ্খল নগরীর গোড়াপত্তনের প্রত্যক্ষদর্শী
আমি ছাড়া আর দ্বিতীয় কেউ নেই।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাও যে তোমার হাতধরে
সংঘটিত হবে; মানুষ ফিরে যাবে আদিম পৃথিবীর
বর্বরতার দিকে। শুরু হবে বনজঙ্গলে
মানুষের বসবাস; প্রধান চালিকাশক্তি পশুশিকার
তখন তোমার আমার ছোট্ট সংসার ছোট্ট সাম্রাজ্য।
তোমার কারণে প্রসারিত হচ্ছে আমার সাম্রাজ্য—
পূর্বদিক থেকে পশ্চিম, উত্তরদিক থেকে দক্ষিণ
আকাশপাতাল নদীনালা সাগর উপসাগর বনাঞ্চল;
এখন তোমার অধীনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো
সাম্রাজ্য।
তোমার দখলে মহাবিশ্বের
বনভূমি আকাশ-বাতাস মহাসাগর
সাত মহাদেশ।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অথবা নোবেল বিজয়ও নয়;
এখন সাফল্যের সূত্র বলতে আমি তোমাকেই বুঝি—
তোমার মতো বিচক্ষণ এবং ক্ষমতাসীন নারীর ইতিহাস
লেখেননি পৃথিবীর কোনো ইতিহাসবিদ
আফসোস হেরোডোটাস।
লেখেননি পৃথিবীর কোনো ইতিহাসবিদ
আফসোস হেরোডোটাস।
Tags:
Poetry
