অনন্য কাওছার
তোমাকে বুঝে উঠতে আমার অর্ধেক জীবন
কেটে যায় ভাবলেশহীন, তোমার দিকে তাকিয়ে
চোখের পলকে পেরোই এককোটি বছরের পথ;
দুজনের দ্বন্দ্বের ভেতর নির্মাণ করি সেতুবন্ধন
নারী, তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
তোমাকে বুঝে উঠতে আমার যৌবনের উপর
নেমে আসে বার্ধক্য; বেড়ে যায় হাতের কাঁপন
হুমায়ুনচত্বরে চলন্ত বাস দেখলেই মনেহয়
আমার দিকে এগোচ্ছে গতিশীল
আন্তঃনগর ট্রেন।
তোমাকে বুঝে উঠতে আমার অর্ধেক কবিতা
অলিখিত থেকে যায় পাখির রুপালি ডানায়;
হারিয়ে ফেলি অজস্র কবিতার লাইন
একে একে ফুরিয়ে আসে জীবন, যৌবন- নদী
নারী, তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
তোমাকে বুঝে উঠতে আমার সমগ্র জীবন
কেটে যায় উদ্দেশ্যবিহীন, তোমাকে ভেবেই
জীবনের শেষ অধ্যায় ঝুলে থাকে সুইমিংপুল;
বাংলা অভিধান, পাঠ্যপুস্তক পুরোপুরি
পুরোদস্তুর মুখস্থ করে ফেলি তবুও
নারী, তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
তোমাকে বুঝে উঠতে কোনো প্রচেষ্টা আর
অবশিষ্ট নেই,
আধুনিক পদ্ধতিও বাকি নেই কোনো।
তোমার সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে আমার জীবনের
সবচেয়ে বিখ্যাত রচনাবলি লেখা হয়ে যায় অনিমেষ;
গতশতকের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রেমের রীতিনীতি
আবারও উঁকি দেয় প্রেমিকের ফটকদরজায়
নারী, তবুও তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
তোমার সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে আমার জীবনের
সবচেয়ে বিখ্যাত রচনাবলি লেখা হয়ে যায় অনিমেষ;
গতশতকের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রেমের রীতিনীতি
আবারও উঁকি দেয় প্রেমিকের ফটকদরজায়
নারী, তবুও তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
কেউ কি পেয়েছিল সমুদ্রের জলে
তোমার চোখের অনুসন্ধান?
কেউ কি পেরেছিল তোমার হৃদয়ে
বিরচিতে অন্তর্লীন গান?
নারী,
নারী,
তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনা আমি।
Tags:
Poetry
