একাকীত্বের বন্দনা

অনন্য কাওছার 

নির্জন মাঠের একাকী শঙ্খচিল, হুতুমপ্যাঁচা
এবং বটগাছের অযুগ্ম শিকড় থেকেও আরো বেশি 
একা হয়ে গেছি।
স্বদেশ তাড়িত নিঃসঙ্গ মানুষের নিপাট বেদনার মতো 
কলমিলতার উপর স্বনির্ভর আহত ফড়িঙের মতো 
ডিভোর্সি নারীদের বুকের উৎপীড়নের লালের মতো  
একা হয়ে গেছি। বড়ো একা হয়ে গেছি। 

একা হয়ে গেছি শীতোষ্ণ প্রেমের বিরহী কবিতার মতো 
বন্দুকের ফাঁকা গুলি— আহত হরিণের কাতর চোখের 
কম্পমান ত্রি-ফোঁটা অশ্রুবিন্দুর মতো, 
একা হয়ে গেছি ভোরের মতো, 
আকাশের জ্বলজ্বলে তারকার মতো 
ঘাসের সবুজে অমিশ্র রোদ; সামান্য শিশিরের মতো 
বড়ো একা হয়ে গেছি বহির্জগতের দেবতার মতো। 
কৈশোরের ঘুড়ি উড়ানো দিনের 
পরিত্যক্ত মাঠের মতো, নিঃসঙ্গ হিজলের মতো 
একা হয়ে গেছি। বড়ো একা হয়ে গেছি।

বাগানের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ ফুলের মতো 
মহাসমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া নবাগত ঢেউয়ের মতো 
অতীত স্মৃতি বিস্মৃতির মতো 
একা হয়ে গেছি। 

একা হয়ে গেছি ডাহুক-টিয়ার বিরুদ্ধ আবহাওয়ার
উপসর্গের মতো, নিরন্তর- নির্বক।
হেমন্তের ঝরাপাতার একাকীত্বের ভেতরও একা
জনসমুদ্রের ভেতরেও আমি নিদারুণ একা।
আমি প্রগাঢ় প্রেমের ভেতরেও প্রেমহীন 
হৃদয়ের ভেতরেও হৃদয়হীন।
প্রেমিকার ঠোঁটের নিকটবর্তী হয়েও 
যে প্রেমিক উদাসীন, এলোমেলো, অসতর্ক;
আমি যে তাহার মতোন।
আমি তাহাদের মতোন। 

আমি একা হয়ে গেছি নিঃসঙ্গ প্রেমিকের বেদনার মতো 
বৃত্তচাপ অথবা জ্যামিতির সামান্য বিন্দুকণার মতো
নির্জন দ্বীপপুঞ্জের একাকী ঈগলের মতো 
একা হয়ে গেছি। 
বড়ো একা হয়ে গেছি।



Previous Post Next Post