অনন্য কাওছার
বাংলা সাহিত্য দ্বিতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ করে ঘরফেরার তীব্র অভিলাষ নিয়ে গেইটলক বাসে উঠলাম। বাসের ভেতরে অপরিচিত মানুষের উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল ছাপে নিজেকেও এক নিরুদ্দিষ্টা মানুষ মনে হলো, এই ভাবনাটাও আমার পুরনো শরীরের মতো ফ্যাকাসে। বাসের পেছনের দিকে দুটো ফাঁকা সিটের একটায় বসে যখন ইউনিভার্সিটির কথা খানিকটে ভেবে নিচ্ছি ঠিক তখন একজন সুপুষ্ট যুবক পাশের সিটে বসলেন। আমার নামপরিচয় জানতে চেয়ে বললেন, ভাই আপনি কোথায় পড়েন? গানটান চর্চা করেন কিনা। আমি সহজবাংলায় বললাম, দেখুন আমার পড়াশোনা দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ। আমি গানটান চর্চা করি না, তবে সাহিত্যের প্রতি প্রবল ঝোঁক আছে বললে ভুল বলা হবে না। আপনার হুটহাট করে গানচর্চা করার প্রশ্নের পেছনে আমার লম্বা এলোমেলো চুল-গোফের অবিন্যস্ত ভাবই দায়ী, নিশ্চয়ই ভ্রান্ত বলিনি? তিনি একগাল হাসি দিয়ে বললেন, ঠিক তাই, আমি প্রথমে ভেবে নিয়েছিলাম আপনি গানচর্চা করেন। অর্থাৎ দেখে মনেহয় কবি-কবি একটা ভাব। আমি চুপচাপ বসে রইলাম, কিছু একটা বলতে যেয়েও বলা হয়নি, মূলত বলবার তেমন প্রয়োজনবোধও করিনি তখন। যাইহোক। আলোচনার একটা পর্যায়ে তিনি তাঁর চলমান জীবনের এমন একটা বেদনাবিধুর গল্প বললেন যা আমাকে মুহূর্তের মধ্যে বিষাদলীপ্ত করলো। আমার কাছে সেই গল্পে বেশ নতুনত্ব আর শৈল্পিক মনে হয়েছে। ঠিক তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার নতুন উপন্যাসে এই গল্পের আধুনিক প্লট নির্বাচন করলে মন্দ হয় না। চলমান কয়েকটা উপন্যাস নির্মাণে হাত দিলেও কেন জানি মনে হচ্ছে এই গল্পের বিষয়বস্তু আদ্যোপান্ত ইউনিক। পরিশেষে, উপন্যাসের নামটাও ঠিক করে ফেললাম। যতদূর সম্ভব, হাতের কয়েকটা উপন্যাসের পরিসমাপ্তির পরপরই এই উপন্যাসে মনোনিবেশ করব। উপন্যাসের নামটা কিছুটা আধুনিক রাখার চেষ্টা নিয়ে ডাইরিতে লিখলাম— "ডানাবিহীন ইকারুস"।
Tags:
Short Story
