গুচ্ছ কবিতা — শিশির আজম

 


শিশির আজম
‎নতুন যুগের থিয়েটারের চরিত্র-লক্ষণ কীরকম হওয়া উচিৎ
‎
‎প্রশ্নটা প্রথম আমি কোন সনামধন্য নাট্যাচার্য্যকে করবো ভেবেছিলাম
‎তারপর তরুন অভিনেতাকে
‎তারপর মিউজিক ডিরেক্টরকে
‎তারপর কস্টিউম ডিজাইনারকে
‎তারপর মঞ্চ পরিকল্পনাকারীকে
‎তারপর প্রডিউসারকে
‎এবং অবশ্যই নতুন যুগের অসন্তুষ্ট দর্শককে
‎
‎প্রশ্নটা বিনোদিনী দাসীকে আমি করবো না

‎শঙ্কা
‎ট্রেন আর হাওয়া
‎দুজনই
‎আশপাশ গ্রাহ্যি না করে
‎ভোর পাঁচটায়
‎আমার ঘরের গা ঘেসে বেরিয়ে গেল
‎
‎ওদের
‎শো শো হিসহিস ফিসফিস ছাড়া
‎কিছুই
‎শুনতে পেলাম না
‎
‎আত্মজীবনীর পারিবারিক অংশ
‎মায়ের ঘরে গেলাম
‎মা আমার ওপর রীতিমতো খিঁচকে উঠলো
‎
‎মেয়ের ঘরে গেলাম
‎মেয়ে যারপরনাই বিরক্ত
‎
‎বউয়ের ঘরে গেলাম
‎মানে আমার ঘরে
‎
‎অর্থাৎ ঘরটার অংশীদার যে আমরা দুজনই
‎এ তো যে কেউ স্বীকার করবে
‎
‎যা হোক ভাবছিলাম
‎এই ঘরটা কতো বাজে
‎
‎আচ্ছা কেউ বলবেন
‎কোন্ ঘরটা বেশি বাজে
‎

‎ফ্রিজের আপেলগুলো
‎আপেলগুলোকে ফ্রিজের ভিতর ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে
‎ওদেরকে বের করে আনো আলোয়
‎তারপর প্লেটে সাজিয়ে টেবিলের ওপর রাখো
‎দেখো ওরা আরও সজীব হয়ে উঠেছে
‎আর পিওর আর অরগ্যানিক
‎যে কোন ক্ষুধার্ত মানুষই ওদের প্রতি আকর্ষণ বোধ
‎না করে পারবে না
‎এমন কি স্বামীহারানো ঐ অসুস্থ সুন্দরী মেয়েটা
‎ঔ
‎পারবে না নিঃশঙ্ক আপেলগুলোকে উপেক্ষা করতে
‎

‎অজানা আঁকশি
‎বীজগণিতের সূত্র না পড়ে এমাসের মাইনে ছাড়াই আমি তোমার দিকে আসছি
‎ওরা আমাকে মেরেছে কম্যুনিস্টদের সঙ্গে আমার খাইখাতির আর বিরুদ্ধ ভূগোলধ্রুপদী
‎ওরা আমার আকাশে কাদা ছিটিয়েছে আমার আকাশ মিরোজয়নুল
‎ওরা আমাকে সহানুভূতি দেখায় আমার মেয়েকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করে দেয়ার
‎প্রতিশ্রুতি দেয় আমার খুব পেচ্ছাব লাগে
‎দয়া করে আমার রাস্তা ছেড়ে তোরা তোদের রাস্তায় যা
‎আমি ঘুমোবো
‎যদি না ঘুমোতে পারি আমার মাথা আমি গুজে দেবো কুকুরের পেটে
‎কুকুরের অবিভক্ত স্নায়ুম-লীতে
‎ওরা দয়ালু ওরা কুকুর ভালবাসে ধর্মগ্রন্থ ভালবাসে
‎বুকপকেটে ঘুঘুপাখির গন্ধ পেয়ে আমার চোখের কোটরে গত শতাব্দীর
‎যে কোটি কোটি উইপোকা ঘুমিয়ে ছিল ওরা জেগে উঠলো
‎ওরা কি সত্যিই ঘুমিয়ে ছিল ওরা তো রুটি আর রাইফেলের ভিতর
‎সম্মন্ধ খুঁজছিল
‎ওরা আমাকে উপহাস করে ওরা আমার চিৎকার শুনতে পায় না
‎ওরা ভবিষ্যদ্বানী করে আমার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে আমিও ফুসফুসের রক্ত
‎শোধন করা ওষুধ রাতের সূর্যের তলে হারিয়ে ফেলি
‎ওরা দেখতে পায় না নর্দমার রক্ত রক্তে ফাল্গুনী রায় আমি অবাক হইনি
‎তোরা বেরিয়ে আয় ঐ সেদ্দ ডিমের ভিতর থেকে
‎মূর্তিটার ভাঙা কানে জোরসে ফু দে একশো বছর পরে হলেও
‎তুই নিজে না হোক অন্তত তোর সন্তান বা সন্তানের সন্তান তার বাজনা শুনতে পারে
‎কড়ই গাছের নিচে ছোড়াটা ঝালমুড়ি বেচছিল
‎আমি ঐ ঝালমুড়ি আর গুরুজনদের নিষেধাজ্ঞা দুপুরের রোদে ছড়িয়ে দিয়ে
‎কুড়িয়ে আনছি কাক
‎রবি ঠাকুরের দেড়শো পৃষ্ঠার নাটক না পড়ে এরপর সিল্কের সুতোর আকাশে
‎তোমাকে নিয়ে ঝুলে পড়বো অজানা আঁকশিতে
‎
‎
‎

Previous Post Next Post