গুচ্ছ কবিতা — সাজ্জাদুর রহমান



গুচ্ছ কবিতা 
সাজ্জাদুর রহমান 

অশ্রুর গুণিতক 
পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবার মন্ত্র
বেরিয়ে এলো বৃন্দাবন থেকে ঠাকুর আসনে দু’জনের নিঃশ্বাস থেকে উধাও হলো 
উত্তাপ চুমুর ঘ্রাণ 
সব চুমু নিগৃহীত আস্তাবলে খুঁজতে থাকে চণ্ডীদাসের প্রেম 
রজকিনীর কলসির গল্প ভরপেট খেয়ে যায় 
অশ্রুর নোনা গণিত, যোগ বিয়োগ গুণিতক।

মানুষ আজব লালসার ফেরীওয়ালা 
মানুষ ধূর্ত কোলেস্টেরল রোগাক্রান্ত 
দিনে ও রাতে মাঠে খেলে জেতার খেলা 
ভেতর থেকে উৎগিরন হলে ডিহাইড্রেশন
সে চুষে নিতে চায় প্রকৃতির সব রস
পৃথিবীর মিউকাস প্লাগ খুলে 
লালায় পরিণত করে সব প্রেম। 

আমি সত্যি বলছি –
মানুষ কয়েকশো কোটি বছর 
আজব লালসার ফেরীওয়ালা ! 

ধাপ
বাতাস ভেদ করে করে 
উল্কার মতো উড়ে আসে দূর্দান্ত মেঘ

পক্ষান্তরে 
জনতার পকেট থেকে ফুলগুলো 
বানের জলের মতো ভেসে যায় শহর কেটে।

কেউ কেউ সেইসব দৃশ্য দ্যাখে 
যা শত শত বছর আগে দেখেছেন পূর্বপুরুষ 
দেখেছেন আকাশ কীভাবে ঢুকে যায় 
এক শ্রেণির মানুষের জিহ্বার ভেতর।

সব চেনা অচেনা 
ভালোবাসা গিলে ফেলে অনেক বছর 
যায় কিছু অনুগত সময় উপমায়, সজ্জায়।

কুয়াশার চাদর ঠেলে একদিন 
বেরিয়ে আসে বুকভাঙা কংক্রিট আয়না 
সেই এক জাদুর গোলকধাঁধায়
নড়েচড়ে রোয়া ওঠা জীবনের গাছ ! 

মূল্যবান অকেজো শেকড়গুলো রসহীন 
বোবা এক যাদুঘর সাজানো, প্রদর্শিত 

ভাঙা ভাঙা ডালে ডালে বাদুড়ের উৎসব 
শত শত ডোরাকাটা চোখের আবডালে ঝরে 
ঘড়ির টিকটিক 
হাজার পায়ের নিচে শুয়ে থাকে 
নির্বাক দোকানঘর, দরদাম 
সব চেনা–অচেনা । 

মেঘের স্তন্য নির্যাস 
তখনো দূরের আকাশ ফাঁকা 
রোদ্দুর কড়া নাড়ছে গ্রীষ্মের দরজায় 
মাটির কোলে স্বপ্নাহত চারাগাছ 
কবিতায় পড়ছে একপলক বৃষ্টির প্রপাত  

গ্রাম ভর্তি মানুষ 
সুদর্শন রাত উল্টাতে উল্টাতে 
অনুসন্ধান করে ভেজা শাড়ির সুখোষ্ণ পাড়

শেষ পৃষ্ঠা থেকে অকস্মাৎ চুঁইয়ে পড়ে 
দোপাট্টা মেঘের স্তন্য নির্যাস
সব ঘাম শুকিয়ে গেলে ঘর ভ’রে হাসতে থাকে সূর্যমুখী ফুলেদের প্রেম ।
Previous Post Next Post