গুচ্ছ কবিতা
এস এম সেবুল
আমাকে মুগ্ধ করে
এই দেশ প্রত্যেহ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে
দেখায় তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্লভ রূপ
মুগ্ধ করে পত্র-পল্লবে ছড়িয়ে থাকা শোভা
নারীও এতোটা ঐশ্বর্যময়ী নয়, যতোটা নির্মল এই আকাশ;
আমাকে মুগ্ধ করে বৈচিত্র্যে ভরা স্নিগ্ধা এ স্বদেশ।
আর কোথাও নেই এমন স্বপ্নে ভরা গয়নার নাও
দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে থাকা হেমন্তের মাঠ ভরা ধান
বিশ্বব্যাপী অনুপস্থিত এমন মায়াময় ছায়া ডাকা গ্রাম
পাখির কলরবে জেগে ওঠা প্রতিটি আশ্চর্য ভোর
মুগ্ধ এ বঙ্গ জননী, আমি তোমার নাগরিক।
কোথাও পাইনি খোঁজে এমন লাবণ্যে ভরা দেশ
এমন জোছনার আলো, নক্ষত্রে ভরা ঝলমলে রাত
মুগ্ধ করে শিশুর কলহাস্যে ভরা উচ্ছল দুপুর
কোথাও নেই শিউলী ঝরা স্নিগ্ধ এ ভোর;
প্রতিটি ঋতুই অত্যাশ্চর্য, প্রাণে আনে সুখ।
আমাকে মুগ্ধ করে শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি
পায়ে চলা মেঠোপথে রাখালের অবিনাশী গান
সর্বদা মুগ্ধ আমি ঘাস ফুলে থেকেছি বিভোর
হাজার নদীর ঋদ্ধ এ স্বদেশ তুমি;
এখানে জন্মে আমি চিরদিন সুখী।
আমার পতাকা
যদিও আমি বৈরাগ্যের দহনে নীল হয়ে গেছি
অরুন্তুদ হাহাকারে জর্জরিত ভঙ্গুর মন
নিয়তির নির্মম নৈরাশ্যকে পুঙ্খানুপুঙ্খ কবেছি পাঠ
আমি কিন্তু জন্মাবধি দুরন্ত দুর্বার
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
আমার যাত্রা হবে স্বপ্নবৎ বেগবান নদীর মতো
দুর্বৃত্তের প্রহসন পায়েদলে পৌঁছে যাবো লক্ষ্যের কাছে
প্রতিটি দুর্বিনীত সত্তার সর্পিল উচ্চারণ স্তব্ধ করে দেবো
নির্দয় নিয়তির যাবতীয় বৈরীতা উপেক্ষা করে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
যদিও আমার আকাশে আজ হল্লা করে নেমেছে বিষাদ
বারবার খেলা করে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস
তুচ্ছদের ঠুনকো মহিমা আজ দৃষ্টিকটু বটে
যাবতীয় মশকারা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
আমার ভাষা সুশৃঙ্খল সুচারু সমুজ্জ্বল
শব্দের ঝংকারে সদ্ভাব প্রজ্ঞা প্রতিরূপ
বলগাহীন ঘোড়ার মতো আমার স্বপ্ন দীপ্যমান
যাবতীয় দুরাচার ভুলে সন্দীপ্ত স্বপ্নের দিকে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
ঈশ্বর, তোমাকে আমি বিশ্বাস করি
মহর্ষির প্রাজ্ঞতায় ঋদ্ধ মস্তিষ্কে যতটুকু বিশ্বাস আছে
নিরন্তর দহনে পোড়া হৃদপিন্ডে যতটুকু ভালোবাসা আছে
ঈশ্বর, তোমাকে দিলাম।
কদাচিৎ রাগ করে ফিরিয়ে নিয়েছি মুখ তিমিরের দিকে
শয়তানের ঋদ্ধ প্ররোচনা সুতরাং বৃথা দোষারোপ
ঈশ্বর, আমার উন্মাদনা ক্ষমা করে দিও।
তোমার আরাধনা রপ্ত করে নির্দ্বিধায় করেছি পান বিষ
চরম মৃত্যুকে অবহেলা করে উৎসর্গ করেছি জীবন
ঈশ্বর, আমার আবেগ তোমার জানা।
এই পৃথিবীর পথে সঞ্চয় আমার দহনের নীল
দীর্ঘ টানেল জুড়ে বয়ে গেছে বিভীষিকা নদী
ইশ্বর, তোমার ইচ্ছা যেনো সার্থক হয়।
আমি বিশ্বাস করি তোমার স্ক্রিপ্ট নাট্যরূপ জীবন
মহৎ সত্তার পরিচয় পাই যেনো জীবনের পথে
ঈশ্বর, তোমাকে আমি বিশ্বাস করি।
নিয়তির সৌন্দর্য
তোমাদের হচ্ছে, হবে
আমার হয়নি, হবেওনা
সুখ হয়নি, দুঃখই নিয়তি
প্রেম হয়নি, অপ্রেমেও না
সাধন হয়নি, ভজনও না।
তোমাদের হবে, হবারই কথা
কপালে আমার দুঃখের তীলক
আমি ভঙ্গুর, তোমরা পরিপূর্ণ
তোমরা স্বার্থক, আমি নিরর্থক
আমার হয়নি, তোমাদের হবে।
আমি ব্যর্থ, তোমরা সফল
তোমরা আলো, আমি আঁধার
তোমরা সংসারি, আমি ভবঘুরে
তোমরা প্রকাশ, আমি অপ্রকাশ
আমার হয়নি, তোমাদের হবে।
তোমাদের হচ্ছে, হবে।
আমার হয়নি, হবেওনা
শুদ্ধ হয়নি, ভুলও না
জীবন হয়নি, যাপনও না
কার দোষে আমার যেন কিচ্ছু হলো না।
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর
আমাকে আর কতো অপেক্ষা করতে বলো
ক্রমাগত দুর্বিনীত পীড়নে আমার পাঁজর ভেঙে গেছে
অহর্নিশ বেদনার্ত হাহাকারে হৃদপিণ্ড ছাই হয়ে গেছে
আদ্যোপান্ত লাঞ্ছনার গ্লানি টেনে ক্লান্ত প্রাণে রক্ত ক্ষরণ
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর।
ভেবেছিলাম সবুজ ফসলে ভরে উঠবে মাঠ
নিমিষে বদলে যাবে দুর্ভাগার পীড়নক জীবন
কাঙ্ক্ষিত মানবীরা হেসে উঠবে গোলাপের হাসি
কথা ছিলো পেয়ে যাবো হিরন্ময় স্বর্গের সিঁড়ি
তোমাকে বিশ্বাস করে সমস্ত জীবনজুড়ে নেমেছে আঁধার।
সন্তাপে মুহ্যমান হৃদয়ে কর্কশ পাখির সুর
তপস্যারত নরাধম উপলব্ধি করে আজ নরকের দাহ
বিশ্বাসের দৈবমূল্য না পেলে বাঁচেনা জীবন
মনুষ্যলোকে লাঞ্ছিত বদন আর দেখাতে রাজি হই
তোমাকে বিশ্বাস করে পলে পলে কেবল ঠকেছি।
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর
সুখের বদলে করেছি পান বিষ
ভালোবাসার বদলে দিন গেছে চরম শোকে
তবুও তোমাকে বিশ্বাস করে কাটাই দিবসরজনী
আজও আমি তোমাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
এই দেশ প্রত্যেহ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে
দেখায় তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্লভ রূপ
মুগ্ধ করে পত্র-পল্লবে ছড়িয়ে থাকা শোভা
নারীও এতোটা ঐশ্বর্যময়ী নয়, যতোটা নির্মল এই আকাশ;
আমাকে মুগ্ধ করে বৈচিত্র্যে ভরা স্নিগ্ধা এ স্বদেশ।
আর কোথাও নেই এমন স্বপ্নে ভরা গয়নার নাও
দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে থাকা হেমন্তের মাঠ ভরা ধান
বিশ্বব্যাপী অনুপস্থিত এমন মায়াময় ছায়া ডাকা গ্রাম
পাখির কলরবে জেগে ওঠা প্রতিটি আশ্চর্য ভোর
মুগ্ধ এ বঙ্গ জননী, আমি তোমার নাগরিক।
কোথাও পাইনি খোঁজে এমন লাবণ্যে ভরা দেশ
এমন জোছনার আলো, নক্ষত্রে ভরা ঝলমলে রাত
মুগ্ধ করে শিশুর কলহাস্যে ভরা উচ্ছল দুপুর
কোথাও নেই শিউলী ঝরা স্নিগ্ধ এ ভোর;
প্রতিটি ঋতুই অত্যাশ্চর্য, প্রাণে আনে সুখ।
আমাকে মুগ্ধ করে শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি
পায়ে চলা মেঠোপথে রাখালের অবিনাশী গান
সর্বদা মুগ্ধ আমি ঘাস ফুলে থেকেছি বিভোর
হাজার নদীর ঋদ্ধ এ স্বদেশ তুমি;
এখানে জন্মে আমি চিরদিন সুখী।
আমার পতাকা
যদিও আমি বৈরাগ্যের দহনে নীল হয়ে গেছি
অরুন্তুদ হাহাকারে জর্জরিত ভঙ্গুর মন
নিয়তির নির্মম নৈরাশ্যকে পুঙ্খানুপুঙ্খ কবেছি পাঠ
আমি কিন্তু জন্মাবধি দুরন্ত দুর্বার
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
আমার যাত্রা হবে স্বপ্নবৎ বেগবান নদীর মতো
দুর্বৃত্তের প্রহসন পায়েদলে পৌঁছে যাবো লক্ষ্যের কাছে
প্রতিটি দুর্বিনীত সত্তার সর্পিল উচ্চারণ স্তব্ধ করে দেবো
নির্দয় নিয়তির যাবতীয় বৈরীতা উপেক্ষা করে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
যদিও আমার আকাশে আজ হল্লা করে নেমেছে বিষাদ
বারবার খেলা করে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস
তুচ্ছদের ঠুনকো মহিমা আজ দৃষ্টিকটু বটে
যাবতীয় মশকারা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
আমার ভাষা সুশৃঙ্খল সুচারু সমুজ্জ্বল
শব্দের ঝংকারে সদ্ভাব প্রজ্ঞা প্রতিরূপ
বলগাহীন ঘোড়ার মতো আমার স্বপ্ন দীপ্যমান
যাবতীয় দুরাচার ভুলে সন্দীপ্ত স্বপ্নের দিকে
নিশ্চিত উড়াবো আমি আমার পতাকা।
ঈশ্বর, তোমাকে আমি বিশ্বাস করি
মহর্ষির প্রাজ্ঞতায় ঋদ্ধ মস্তিষ্কে যতটুকু বিশ্বাস আছে
নিরন্তর দহনে পোড়া হৃদপিন্ডে যতটুকু ভালোবাসা আছে
ঈশ্বর, তোমাকে দিলাম।
কদাচিৎ রাগ করে ফিরিয়ে নিয়েছি মুখ তিমিরের দিকে
শয়তানের ঋদ্ধ প্ররোচনা সুতরাং বৃথা দোষারোপ
ঈশ্বর, আমার উন্মাদনা ক্ষমা করে দিও।
তোমার আরাধনা রপ্ত করে নির্দ্বিধায় করেছি পান বিষ
চরম মৃত্যুকে অবহেলা করে উৎসর্গ করেছি জীবন
ঈশ্বর, আমার আবেগ তোমার জানা।
এই পৃথিবীর পথে সঞ্চয় আমার দহনের নীল
দীর্ঘ টানেল জুড়ে বয়ে গেছে বিভীষিকা নদী
ইশ্বর, তোমার ইচ্ছা যেনো সার্থক হয়।
আমি বিশ্বাস করি তোমার স্ক্রিপ্ট নাট্যরূপ জীবন
মহৎ সত্তার পরিচয় পাই যেনো জীবনের পথে
ঈশ্বর, তোমাকে আমি বিশ্বাস করি।
নিয়তির সৌন্দর্য
তোমাদের হচ্ছে, হবে
আমার হয়নি, হবেওনা
সুখ হয়নি, দুঃখই নিয়তি
প্রেম হয়নি, অপ্রেমেও না
সাধন হয়নি, ভজনও না।
তোমাদের হবে, হবারই কথা
কপালে আমার দুঃখের তীলক
আমি ভঙ্গুর, তোমরা পরিপূর্ণ
তোমরা স্বার্থক, আমি নিরর্থক
আমার হয়নি, তোমাদের হবে।
আমি ব্যর্থ, তোমরা সফল
তোমরা আলো, আমি আঁধার
তোমরা সংসারি, আমি ভবঘুরে
তোমরা প্রকাশ, আমি অপ্রকাশ
আমার হয়নি, তোমাদের হবে।
তোমাদের হচ্ছে, হবে।
আমার হয়নি, হবেওনা
শুদ্ধ হয়নি, ভুলও না
জীবন হয়নি, যাপনও না
কার দোষে আমার যেন কিচ্ছু হলো না।
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর
আমাকে আর কতো অপেক্ষা করতে বলো
ক্রমাগত দুর্বিনীত পীড়নে আমার পাঁজর ভেঙে গেছে
অহর্নিশ বেদনার্ত হাহাকারে হৃদপিণ্ড ছাই হয়ে গেছে
আদ্যোপান্ত লাঞ্ছনার গ্লানি টেনে ক্লান্ত প্রাণে রক্ত ক্ষরণ
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর।
ভেবেছিলাম সবুজ ফসলে ভরে উঠবে মাঠ
নিমিষে বদলে যাবে দুর্ভাগার পীড়নক জীবন
কাঙ্ক্ষিত মানবীরা হেসে উঠবে গোলাপের হাসি
কথা ছিলো পেয়ে যাবো হিরন্ময় স্বর্গের সিঁড়ি
তোমাকে বিশ্বাস করে সমস্ত জীবনজুড়ে নেমেছে আঁধার।
সন্তাপে মুহ্যমান হৃদয়ে কর্কশ পাখির সুর
তপস্যারত নরাধম উপলব্ধি করে আজ নরকের দাহ
বিশ্বাসের দৈবমূল্য না পেলে বাঁচেনা জীবন
মনুষ্যলোকে লাঞ্ছিত বদন আর দেখাতে রাজি হই
তোমাকে বিশ্বাস করে পলে পলে কেবল ঠকেছি।
তোমাকে বিশ্বাস করে দীর্ঘ সতেরো বছর
সুখের বদলে করেছি পান বিষ
ভালোবাসার বদলে দিন গেছে চরম শোকে
তবুও তোমাকে বিশ্বাস করে কাটাই দিবসরজনী
আজও আমি তোমাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
