গুচ্ছ কবিতা — ভানু পুরকায়স্থ



 গুচ্ছ কবিতা
ভানু পুরকায়স্থ

যেখানে যন্ত্রণা নেই
কখনও কখনও মনে হয়
চলে যাই দূর কোনো নিষিদ্ধ নগরে
কখনও মনে হয়
আকণ্ঠ ডুবে থাকি প্রশান্তির শান্ত সোমরসে
অথবা পৃথিবী বিতন্ন করে
তুলে এনে বিষের লহর
ঢেলে দেই তৃষ্ণার্ত কণ্ঠতে
আর রাত্রির মধ্যযামে ঢলে পড়ি
আত্মবিস্মৃত কোনো সুরের সম্মোহন স্রোতে
যেখানে যন্ত্রণা নেই ; প্রবঞ্চিত হয়না যেখানে
আত্মার গতিপথ
যেখানে স্বপ্নের গর্ভপাতে কেঁপে উঠেনা কোনোও ত্রিলোক।

কণ্ঠে তার বিদায়ের গান
আমার আকাশ ভরা গভীর গোধূলি
এখানে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে আছে সব প্রতিবেশ
সুনসান নীরবতা নিথর সময়
এমন সন্ধ্যায় তুমি কী চাও বল্লরী!
তোমাকে দেবার সাধ যদিওবা আছে
তবুও তো বেলা নাই আঁধার আকাশে
মনের গহনে শুধু
নিঃশব্দ ফল্গুধারা হয়ে ক্লান্তপ্রাণ
অসীমের অভিসারে ব্যস্ত মাতোয়ারা
কণ্ঠে  তার বিদায়ের গান
ও বল্লরী, কণ্ঠে  তার বিদায়ের গান।

শব্দের মাঝেই খুঁজি ঈশ্বর 
অতোটা ঐশ্বর্য দিয়ে কী কাজ আমার
শব্দের ভিক্ষুক আমি শব্দ পেলে পরে
অপার আনন্দ নিয়ে ফিরি আপনায়
এরচে বৈভব আর দেখিনা কোথাও
জীবনের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে;

যেদিন ছেড়েছি ঘর শব্দ সন্নিধানে
সেদিন হতেই আর ফিরিনিতো ঘরে
শব্দও দেয়নি যেতে অন্যকোনোখানে
রেখেছে আশ্রিত করে তার তপোবনে
সে আমার দ্রোণাচার্য
আমিও রয়েছি পড়ে একলব্য হয়ে
জীবনের নদীটার পারে
শব্দই পরম তপঃ
শব্দ পরাৎপর
শব্দের মাঝেই খুঁজি আমার ঈশ্বর।

এ হৃদয়ের ব্রহ্মপুত্র নদী
মনোভূমির হিমরেখা হতে
যদি কোনোদিন বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে জমাটবদ্ধ মেঘ
যদি অনাদি অনন্ত হতে বয়ে চলা হিমবাহ গলে যায় কোনোদিন
তাহলে সমুদ্র সন্ধানে জন্ম দেবো
এ হৃদয়ের ব্রহ্মপুত্র নদী
তাহলেই জলের হিল্লোল
কালের তটে লিখে রেখে যাবে তার
জমাটবদ্ধ হিম হবার ইতিহাসরাশি।

ক্ষমা করো সমকাল
এতো দুর্বহ ভার সইবো কীভাবে?
অবসন্ন ভারাতুর জীবনের সূর্যাস্ত বেলায়
আমি যে সর্বস্ব হারা অসমর্থ প্রাণ
তা তোমাকে কীভাবে বোঝাই,
আমাকে ক্ষমা করো সমকাল
লঘু করো বোঝা
একেতো ভারাক্রান্ত দুর্বিষহ ঋণগ্রস্ত আমি
আমার পৃথিবী জুড়ে বড় বেশি শক্তির আকাল।
Previous Post Next Post