গুচ্ছ কবিতা — মেকদাদ মেঘ



মেকদাদ মেঘের গুচ্ছ কবিতা 

ত্রস্তপাখির ছায়া
‎নীলিমা বিদীর্ণ হয় যেন কোনো ইস্পাতনখরে,
‎লৌহপাখি ফেলে যায় যেন বিষাক্ত অগ্নির কণা,
‎শান্তির বুলিতে ভাসে কেউ  সুউচ্চ শিখরে
‎অথচ রক্তেই ভিজে যায় অচেনা আঙিনা।
‎মানচিত্র জুড়ে শুধু লাল কালির অনন্য দাগ,
‎সীমানার কাঁটাতারে বিঁধে আছে ক্ষুধার্ত শৈশব,
‎শোষক শ্রেণিই পৈশাচিক কেড়ে নেয় কলরব
‎মানুষ অযথা ভুলে ঠকে যায় বাড়ায় দেমাগ ।
‎
‎বিবেকের আদালতে  মৌনতার এ কেমন মেলা,
‎মুক্তির চেতনা নিয়ে ভেঙে ফেলো অন্ধ কারাগার,
‎সাম্রাজ্যবাদীই খেলে মারণাস্ত্রের প্রাণঘাতী খেলা।
তবুও জাগবে লোক ধ্বংসস্তূপের গভীরে আবার ?
শিকল ভাঙার গান বাজে যেনো ক্ষণে অনুক্ষণে
‎মরুভূমি কাঁদে কেনো পৃথিবীতে কোন সে কারণে।
‎
‎কর্পোরেট থাবা
‎আগ্রাসন শুধু বন্দুকেই নয়, সব দিকে আসে বাজারে বাজারে হানা দেয় কোন অদৃশ্য ঘাতক,
‎শুধু উন্নয়নের বুলি নিয়ে দাঁড়ায় শোষিতের প্রশ্বাসে
গায়ে কাঁটা দিয়ে বিস্মিত হয় নিজেদেরই ত্বক 
‎গড়ে তোলে রঙিন নাটক। 
খনিজ সোনার ঘ্রাণে লালা ঝরে হায়েনার ,
অদ্ভুত বুর্জোয়া বিলাসের 
‎তৈরি করে যুদ্ধের নকশা , ফসল নষ্ট হয় মাঠের আধিপত্যের কঠিন সুখে , হাহাকার ভেসে ওঠে কানে 
‎বৈরী গণতন্ত্রের তকমা এঁটে চালায় মারণরথ,
‎করুণ দাক্ষিণ্যে বাঁচে বিকিয়ে যাওয়া কত মাথা,
‎পণ্যের মোড়কে মোড়া আজ সব মুক্তির পথ।
ইতিহাস লিখে রাখে এই শঠতার গোপন কথা—
একুশ শতকে পুঁজিবাদী  আগ্রাসন বড় সূক্ষ্ম,
‎ঘাত-প্রতিঘাতে নীল হয় নিরন্ন মানুষের বক্ষ।
‎
‎প্রতিরোধের সুর
‎ভেঙে দাও মরীচিকার এইসব হিংস্রদ্বার,
‎আগ্রাসনী বিষদাঁত ভেঙে দাও সাহসী কৌশলে,
‎ইতিহাস কোনোদিন শোষকেরে দেয়নি নিস্তার
‎জয়টীকা জোটে শুধু ন্যায়ের কঠিন সেই তলে।
কলম হোক প্রদীপ, গান হোক মুক্তির শপথ,
‎হৃদয়ে হৃদয়ে ছড়াক বিদ্রোহের জলন্ত শিখা,
‎সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে হারাইয়োনা সত্য-সুপথ
‎দুখিনী বর্ণমালায় লিখো শাশ্বতের জয়টিকা।
‎
‎মুষ্টিবদ্ধ হাতগুলো যখন আকাশ ছুঁতে চায়,
‎সাম্রাজ্যবাদী দম্ভ তখন লুটিয়ে পড়ে ধুলোয়,
‎নতুন সকাল আসে সত্যের অমোঘ ইশারায়।
পরাজয়ের বিষণ্ণ সুর আগলে রাখে কুলোয়—
তাদেরকে বলো এই মাটি কোনো আপস জানে না,
‎বিপ্লবের রক্তে লেখা স্বাধীনতা রক্ত দিয়ে কেনা ।
‎
‎শকুনের ডানা 
‎সময় খণ্ডিত করে সময়খণ্ডণের খণ্ডাংশ
‎অনেকে এগিয়ে যেতে থাকে সময়ের হাত ধরে 
‎যদিও কেউ কেউ পিছিয়ে পড়ছে বানরনৃত্যে
‎রূপকসময়ের নগ্ন আয়নায় দেখতে পাই—
‎উড়ে যায় একঝাঁক শকুনের দল
‎বিষন্ন বিষণ্ণতায়
‎তাদের পালক থেকে খসে পড়ে  ভাঙাবার্তা 
‎রোদের স্পর্শ ভারী করে প্রাগৈতিহাসিক সীমানায়।
‎
‎শূণ্য থেকে নীলচে কুয়াশায় নেমে আসে ধূসর ডানা,
‎ডানা বাতাসের গায়ে ধাক্কা দিয়ে ব্যক্ত করে 
‎কোমলতা কঠোরতার ইশারা 
‎শকুন পাখির চেয়ে অনেক ভয়ংকর মুখোশি শকুন 
‎ওরাও খুবলে খায়,  সময়ের পচা লাশে বসে কঙ্কালসহ অবশিষ্টটুকু,
‎ভেতরের হাওয়া থেকে 
‎সভ্যতার হাড়ের ভেতর থেকে 
‎ফিসফিসিয়ে ওঠে জাগতিক জঞ্জাল-পথিক তোমাকে নির্ধারণ করতে হবে কোন পথে যাবে? 
‎
‎ওইসব শকুনের দল ডালে বসে থাকা শকুনের চেয়ে বড় ভয়ংকর, যেনো অসারতা, শূন্যতার নিশ্চুপ প্রান্তরে শকুনের চোখ—হলদেটে, তীক্ষ্ণ, নির্বিকার কর্পোরেট মৃত্যুতে মানুষেরই সাজানো নাটকের দৃশ্য - 
মিথ্যাবক্তৃতা বিবেকের বিকৃত পুরনো কংকাল। 
‎তবুও অনেকে বুঝেও বুঝে না দৃশ্যপট
‎যেনো কুমিরের পাঠশালায় শেয়ালের সন্তান 
‎আর কঙ্কালসার পাখির বাচ্চা উড়ে যাচ্ছে মৃত্যুর ওপারে।
Previous Post Next Post