অনন্য কাওছারের তিনটি কবিতা



০১.
বিবস্ত্র বেদনার লেফটেন্যান্ট 
অনন্য কাওছার 

শতাব্দীর অন্ধকারে তপস্যারত আমার চেতনা
বেদনার সিঁড়ি চোখের পলকে দীর্ঘ হচ্ছে, 
উর্বর মস্তিষ্কে বিব্রত সংলাপ, আজকাল অভিযোগ নেই 
যেখানে দাঁড়াই শ্বাপদের হিংস্র চোখের তিরস্কার 
যেখানে দাঁড়াই বিবস্ত্র বেদনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল
শোনো, রোমানীয় শহরের রাজহরিণী—
এরচেয়ে বড়ো অস্ত্রের মুখোমুখি আমি বসে আছি
আমার হৃদয় ভেঙে চুরমার, অথচ বলিনি 
‘কবিদের নিঃসঙ্গতা ভিসুভিয়াস থেকেও বিপদজনক
আগ্নেয়গিরি বুকের ভেতরে আছে বলেই কবিতার শরীর
শব্দের আগুনে শাণিত তরবারি আর সুতীক্ষ্ণ বেয়নেট 
কবিতা ছাড়া কবিদের বড়ো কোনো অস্ত্র নেই 
নিঃসঙ্গ ছাড়া কবিদের বড়ো কোনো শত্রু নেই 
বিরহ ছাড়া কবিদের বড়ো কোনো অসুখ নেই 
অতএব, কবিকে দাও শাণিত যন্ত্রণা আর বিরহগুচ্ছ 
ফুলের বিনিময়ে অঞ্জলি ভরে দাও অবহেলার প্রাচীন শরাব 
চুম্বনের বদলে ঠোঁটে তুলে দাও বিষের আরক।’
শতাব্দীর অন্ধকারে তপস্যারত আমার চেতনা 
দগদগে যন্ত্রণার তাজাল্লীতে বসে দেখে নিচ্ছি 
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে 
আমার বিধ্বস্ত হৃদয়ের কাছে;
অথচ তুমি সমগ্র নগরীর পর নগরী মাতাচ্ছ মহানন্দে।

০২.
কী চাইতে এসেছো, হেলেনা 
অনন্য কাওছার 

এক নক্ষত্রের রাত অতিক্রম করে তুমি পৌঁছে যাচ্ছো 
আমার শহরে, এত যানজট মাড়িয়ে আমাকে আবিষ্কার 
করেছো ভেঙে পড়া ব্রিজের মর্মন্তুদ বিকেলে 
আমি নির্জীব নিষ্ক্রিয় এক বিবর্তিত অলীক সৈকতে 
মৃত লবনের শবদেহ— গলিত লাশ,
কেন তবে খুঁজেছ আমার বরফের মস্তিষ্ক? কী দরকার
পড়েছে আমার দেহের কঙ্কাল— আঙুলের অবহেলিত
হাড্ডি— অস্থিমজ্জার নরম গন্ধ— এ হয়তো কোনোদিন
পাতিকাকের মুখ থেকে খসে পড়েছি কেবলই;
ঝুলেছি কালো কুকুরের গলায় এযাবত 
আমার হাড়গুলো কি স্মৃতির হিমজল হয়ে তোমার শহরে 
করেছিল প্রবেশ? 
পাহাড় থেকে সমুদ্র— লৌকিক থেকে অলৌকিক
নাট্যমঞ্চে দাঁড়িয়ে বুঝেছি, এ যেন দুর্বোধ্য প্রাচীন
পদাবলীর ছেঁড়া ছেঁড়া পৃষ্ঠার দীর্ঘতম বিষণ্ণ-পুকুর; 
এক নক্ষত্রের টেবিলে অদ্ভুত নীরবতার মুখোমুখি বসে
আমার শহরে আজ কী চাইতে এসেছো হেলেনা?


০৩.
সহজতম স্বীকারোক্তি 
অনন্য কাওছার 

একটি বৃত্তের ভেতরে প্রতিনিয়ত ঘুরছি 
ঘুরতে ঘুরতে দাঁড়িয়ে আছি 
বসছি, আবারও ঘুরছি, দৌড়াচ্ছি 
দৌড়ে দৌড়ে বেরনোর প্রয়াস চালিয়ে 
এবার দীর্ঘ ঘুমের ঘোরে টলমল করছি 
বৃত্তের মাঝখানে দুপুরের রঙচঙে 
ভালো লাগছে, আরেকটু এগিয়ে যেতে 
দ্রুততম পায়ে হেঁটে যেতে যেতে বুঝেছি 
বৃত্তের ভেতরে আমার মত অগণিত মানুষ
প্রতিনিয়ত নিজস্ব ভাবনায়
বেবাক মশগুল, তারাও ঘুরছে 
একটি বৃত্তের ভেতরে আটকে গেছি আমি 
এবং একটি বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুতে 
ঝুলে আছে 
জীবন
জী-বন।


অনন্য কাওছার 
আছিরগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সিলেট, বাংলাদেশ। 
+8801959-470134

Previous Post Next Post