যে দার্শনিক কবিতায় কবি

যে দার্শনিক কবিতায় কবি

অনন্য কাওছার 

যে ধীরব হেঁটে যায় জলতরঙ্গের সেতু মাড়িয়ে
সদর্পে হেঁটে যায় ইউরেনাস পেরিয়ে সেই জলজ সিঁড়ি;  
আমি তাঁর আধিপত্যের সহযাত্রী,
সমকক্ষ। 

যে মনীষা হেঁটে যায় ঊনলৌকিক কালের নদীবন্দর
ব্রিজ মাড়িয়ে, আঁকিয়ে যায় নারীবক্ষ চীনের সাগরে; 
আমি তাঁর মজ্জাগত সহজাত প্রতিভা,
পথিকৃৎ। 

যে যাত্রিক স্টিমার বিপ্রতীপ ঝড়-ঝঞ্ঝা পাশকাটিয়ে 
পুরোদমে কাঙ্ক্ষিত সমুদ্রবন্দরগুলোয় পৌঁছে যায় 
আমি আজ তাদের চেয়েও বিচক্ষণ,
অনির্বাণ। 

অথবা যে মহর্ষি ধ্যানগম্ভীর এক ভয়াল গুহায়
অবশেষে আবিস্কার করে আত্মিকতত্ত্বের দার্শনিকতা 
যে যায়, অপলকে হেঁটে যায় দেবতাদের স্বর্গরাজ্যে;
আমি আজ তাদের চেয়েও গতিশীল 
 দুর্নিরোধ্য।

যে নটরাজ ডেকে এনে মহাপ্রলয়, সমবেত গুঞ্জনে 
যে হেঁটে যায় এক লাফে প্যারালাল ইউনিভার্স;
যে যায়, হেঁটে যায় রকেট গতিতে আরব্য সাগর 
আমি তাঁর স্বকীয় জলের অনুভব।

যে ধীমান অতিক্রম করে পৃথিবীর যাবতীয় নাটকীয়তা 
হেঁটে যায় মাইলের পর মাইল জলাভূমি বা পাহাড়ী সড়ক 
যে যায়, হেঁটে যায় প্রাগৈতিহাসিক কালের ভূগর্ভে
আমি তাদেরই একজন, অভিযাত্রী
পরিব্রাজক। 

যে ধীবর হেঁটে যায় জলতরঙ্গের সেতু মাড়িয়ে 
যেতে যেতে আঁকিয়ে তুলে জিপসি হেলেনার চিত্রকল্প
যে যায়, হেঁটে যায় ক্রমান্বয়ে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল;
আমি তাঁর শৈল্পিক কবিপ্রতিভা, নাক্ষত্রিক আলো। 





Previous Post Next Post