অস্তিত্বের ভেতরে কে তুমি হেঁটে যাও?

অস্তিত্বের ভেতরে কে তুমি হেঁটে যাও? 
অনন্য কাওছার 

আমি যে পতাকা উড়াতে শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত কাটাচ্ছি
নির্ঘুম নির্বিকারে অন্ধকারের মতো নির্জন প্রস্তরগুহায়
তুমি সেই পতাকা তিনযুগ ধরে উড়াচ্ছ তোমার
শিরমুকুটে;
যেন প্রকম্পিত মার্কিনী পতাকার স্বরূপত—
এই উড়ন্ত পতাকার অদ্বিতীয় জাঁদরেল সাক্ষী
সেইকালের যুদ্ধাহত আমার খয়েরী ফড়িং।

যে বিজয়ের অভিলাষী ভাবনায় আমি পৃথিবীর
আদিপর্ব; কিতাবাদীর খুঁটিনাটি আজ-অব্দি রপ্ত করে
চলেছি তা যেন তোমার নখদর্পনে 
সেই বয়ঃসন্ধি থেকেই।
যে বাতাসে মাতলা রুপালি-পঙ্খী নারীতত্ত্বের
ঐহিক স্তুতি প্রাচীন হারমোনিয়ামের ভাষায় গাইতে 
থাকে— একি হায়, আমি সেইসব নীরন্ধ্র রূপতত্ত্বের 
প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে তোমাকেই দেখি।
তুমি কি ঈশ্বরের নিকটাত্মীয় কেউ?
না-কি অনাদি আদিভূত গ্যালাক্সির আদিম তারকা?

তিমিরাবগুণ্ঠিত মহাকাশে 
যখনই আলোক ফুটিয়ে তুমি ধীরপায়ে হেঁটে যাও 
পূর্ব থেকে পশ্চিমে— উত্তর থেকে দক্ষিণে 
তখনই তোমার রৌপ্য হেমলেটের তেজে আলোকিত হয়
নব-নক্ষত্র, মহাপৃথিবী, মহাকাশ;
চাঁদের পাহাড়ে দেখা মেলে সফেদ জ্যোৎস্না। 

যে পতাকা উড়ছে আমার অতন্দ্র অস্তিত্বের ভেতরে 
তুমি সেই বিজয়ের পুষ্পকুঞ্জে নীরবে ফুটিয়ে তুলো
একঝাঁক জংলী পাখি;  
প্রতিটি ভোরের শিশিরবিন্দু তোমার আঙুল হয়ে ঝরে
পড়ে আমার শরীরে মাংসে কঙ্কালে-কঙ্কালে। 




 
Previous Post Next Post