এখনও অনেক পথ

 অনন্য কাওছার 

অনন্তকাল ধরে মাছের মতো সাঁতার কেটে খাল থেকে
বিল, বিল থেকে নদী, নদী থেকে সাগরের শেষবিন্দু
জলে গড়াগড়ি খেয়ে বুঝেছি এখনও অনেক পথ বাকি;
শরৎ এখানে হেমন্তের মাঠের দিকে তাকিয়ে কতকাল
শীতের আর্দ্র বাতাসের প্রতীক্ষা করেছিল এবং 
ষোড়শী বালিকার মতোই আগমনী বসন্তের আরাধনা
করতে যেয়ে একবিন্দু শিশিরের ভেজা চুলে তাকিয়ে
বুঝেছিল কেউ কারো প্রতীক্ষিত সন্ধ্যা নয়;
অনন্তকাল ধরে আকাশের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যেয়ে
কখনও একত্রিত হয়নি আকর্ষিক সূর্যের উদয়াস্ত,
সেই মহাকালের ধূম্র বালুকণার করিডরে আমার
বিচূর্ণিত হাহাকার, গ্রীষ্মের দুপুরের উষ্ণ রৌদ্ররশ্মির
অশৃঙ্খল কিরণের মতোই শঙ্কিত হয়ে গেছে জীবন;
পৃথিবীর সমস্ত আঁকাবাঁকা পথপ্রান্ত পেরিয়ে বুঝেছি 
এখনও দীর্ঘতম পথের দেখা হয়নি, অনন্তকাল ধরে
সামুদ্রিক মাছের মতোই জীবনে সাঁতার কাটতে
কাটতে একেবারেই ডুবে যেতে হয় দীর্ঘতম নদীসমুদ্রে।
তবুও সামান্য জীবন কোনো প্রতীক্ষিত সন্ধ্যা নয়;
ফিরে তাকালে দেখি এখনও অনেক পথ বাকি। 



Previous Post Next Post