ইশ্বর, আমি কেন পাইনা

অনন্য কাওছার 

তোমাদের পরিচর্যা বিহীন বাগানেও ফুলের দেখা মেলে,
অপ্রস্তুত উঠোনে বসলে জোছনার দেখা পাওয়া যায়,
বসন্ত-বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উৎসব পৃথিবীর বর্ণালীগত সৌন্দর্য কেবলই তোমাদের নিজস্ব প্রাপ্তি;
কেবল তোমাদের ব্যালকনিতে 
বাতাসের বিমুগ্ধতা, পাখিদের ডানার পুনর্বিন্যাস 
তোমাদের আকাশও ওই আকাশের চেয়েও নীলোজ্জ্বল;
কাচের বিল্ডিং থেকেও তোমাদের ঘরে-বাইরে 
টানা বারো মাসই ঋতুরাজ বসন্তের দেখা পাওয়া যায়
কেবলই আমি তা বিশুদ্ধ প্রার্থনা করেও পাইনা। 

তোমাদের তাৎপর্যপূর্ণ জীবন স্বর্গীয় আশীর্বাদে ভরপুর;
জিরাফের লম্বা গ্রীবাদেশের মতো দীর্ঘ মনঃপীড়া নেই 
কোনো বেদনার শব্দকোষ নেই তোমাদের।
আদিগন্ত মাঠের সবুজে তোমাদের কীর্তিকলাপ
সোনালি ধানের শীষের গন্ধে উড়ে তোমাদের সৌরভ 
তোমাদের জীবনীগ্রন্থ স্বর্ণপদকের মতোই জৌলুস;
আদিম বনাঞ্চলের শীতোষ্ণ পরিবেশ তোমাদের হৃদয় 
কেবল তোমাদের দিঘিপুকুরে ফুটে নীলোৎপল 
তোমাদের বাতাসেও মধুস্বর গীতিকবিতা, মাতাল মন্ত্র।
ইশ্বর, আমি কেন পাইনা। 

তোমাদের অগভীর নদীবন্দরেও আসে সোনালি জাহাজ
অনিচ্ছায় সমুদ্রসৈকতেও মণিমুক্তার দেখা পাওয়া যায়
কেবলই তোমাদের ভূভাগ বহিরাক্রমণ থেকে নিরাপদ 
একমাত্র তোমাদের করতলগত তাবৎ ডায়মন্ড হীরকখণ্ড 
তোমাদের ভূখণ্ড আমার এই ভূখণ্ড থেকেও রক্ষণশীল
কেবলই তোমাদের অধিকারে অলৌকিক দীপাবলি 

স্বর্গীয় প্রশান্তি, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্যও একমাত্র তোমাদের। 
কেবল তোমাদের নিয়তি নিভাঁজ নির্ভার নিখুঁত নিটোল 
ইশ্বর, আমি তা বিশুদ্ধ প্রার্থনা করেও পাইনা।




Previous Post Next Post