নিরাপদ সাইরেন

অনন্য কাওছার 

আমাকে সে নিয়ে যায় দিগন্তের ধ্রুপদীনীল
বহির্জগতের জ্বলজ্বলে সিলভার আকাশ, 
নিয়ে যায় নীলপরি অঞ্চল, অখণ্ড দ্বীপ। 
সে যদি বলে, "তুমি যাও"
তবে আমি যেতে পারি ৪০৮ বিলিয়ন 
আলোকবর্ষ দূর, আরো কোনো অধিক গন্তব্যে;
পদ্মাসেতুর মতো কয়েক কোটি অগ্নিপথ 
চোখের পলকেই পেরোতে পারি।  
সে বললে পেরিয়ে আসি সুউচ্চ পাহাড় 
রাশিরাশি পর্বতশৃঙ্গ এবং বার্লিন প্রাচীর।

সে যদি ডাকে, 
মাঠের সবুজ পাতার ঝিরিঝিরি শব্দাবলী 
হয়ে ওঠে নিরাপদ সাইরেন। 
লাউডস্পিকারে বাজে রবীন্দ্র সংগীত 
কাকের কর্কশ গলায় নীতিবাক্য, 
ব্রজবুলি ভাষা। 
সে যদি বিরক্তি নিয়ে দ্বিতীয়বার ডাকে,
আমি চোখের সামনে দেখতে পাই 
একডজন জ্বলজ্বলে হীরের জাহাজ
ডুবে যায় নদীর বাঁকে। 
এবং তৃতীয় ডাকে 
চোখের সামনে বদলে যায় 
অলীক পৃথিবীর আঁকাবাঁকা পথ, 
ভিখিরি জীবন। 

সে চাইলেই পাল্টে যায় ট্রাফিক সিগন্যাল 
বৈরী বাতাসের গতিপথ।

আমাকে সে নিয়ে যায় বহুবিস্তৃত নিকুঞ্জে
গভীর আলোআঁধারি বনাঞ্চল, গিজগিজে কাশবন 
নিয়ে যায় শালবনবিহার, জর্ডান নদী। 
সে যদি বলে, "প্রাণ দাও"
তবে আমি চল্লিশতলা বিল্ডিং থেকেও অনায়াসে 
দিতে যাবো দুঃসাহসিক লাফ। পানির বোতলে
মিশিয়ে নেব একশত-এক স্লিপিং টেবলেট। 

সে যদি চায়, "উপহার"
তবে কিনে নিতে পারি মহাবিশ্বের দুর্গপ্রাচীর,
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী নেকলেস, হীরের আংটি। 
সে বললে লেখা হবে মহাকাব্য উপাখ্যান 
এবং সে বললেই কমাতে সক্ষম  
আকাশপাতালের পার্থক্য, 
ভৌগোলিক সীমারেখা।



Previous Post Next Post