দুইদিকে দরজা পর্ব ০৬

অনন্য কাওছার 

নীলপরি অঞ্চলে মিশরীয় পিরামিডের মতো সারি সারি পাহাড়। সাতাশ নম্বর পাহাড়ে বসবাস করতো একরকমের দানবাকৃতির তার্জিন সম্প্রদায়। তাদের মুখের ভাষা দুর্বোধ্য ছিল বলে সমগ্র ভূখণ্ড থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নাগরিক জীবন থেকে ছিটকে পড়া এই সম্প্রদায় পৃথিবীর মানুষের কাছে হয়ে ওঠে রুপকথার অলীক চরিত্র। মানবসভ্যতার ইতিহাসেও ইতিপূর্বে উন্মোচিত হয়নি তাদের নির্ভরযোগ্য কীর্তিরেখা। নীলপরি অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্য আমাদের থেকে কিছুটা ভিন্ন, বৈচিত্র্যময়। প্রাচীনকালে চর্যাপদের অনেক পদকর্তাও এই অঞ্চলে নিয়মিত আসতেন। কবিদল মিলে চর্চা হতো শিল্প-সাহিত্য। বন্যপশুপাখি শিকারের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতো সমগ্র নীলপরি অঞ্চল। হরিণের মাংসের ভোজনোৎসব ছিল এই তার্জিন সম্প্রদায়ের নৈমিত্তিক কার্য।
        নীলপরি অঞ্চল প্রাচীনকালে শতভাগ নিরাপদ ছিল। তবে কালের পরিক্রমায় সেখানে সংঘটিত হয় গণহত্যা। এই গণহত্যার ইতিহাস পরবর্তী সময়ে লেখা যাবে। এতটুকু জেনে রাখা দরকার যে, সেই গণহত্যার পর থেকে নীলপরি অঞ্চলে নেমে এলো অন্ধকার। এবং  আজ আধুনিক যুগে নীলপরি অঞ্চল বিলুপ্তির দিকে। এই অন্তিম সময়ের টিকে থাকার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন পঞ্চ তার্জিন। যিনি তার্জিন সম্প্রদায়ের সর্বশেষ উত্তরসূরি। 
      নীলপরি অঞ্চলের বয়োজ্যেষ্ঠ ভারুই তার্জিন। তিনি শাকু তার্জিনকে ডেকে বললেন, আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। সূর্যালোক থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা অভিশাপ দিচ্ছে। তার্জিন সম্প্রদায়ের কথা পৃথিবীর মানুষ জানে না। আমাদের পুর্বপুরুষের কথা পৃথিবীর ইতিহাস লিখে রাখেনি। এতটুকু বলে ভারুই তার্জিন সূর্যালোকের দিকে তাকিয়ে নিজের কপালে তিনবার চিমটি কাটলেন। এবং বজ্রকণ্ঠে বললেন, তার্জিন সম্প্রদায়ের পদচিহ্ন কি পৃথিবী থেকে একদিন মুছে যাবে? (পাঠকের বুঝার সুবিধার্থে সহজ অনুবাদ)  
     শাকু তার্জিন জিহ্বা বের করলেন। এবং সূর্যলোকের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, মহামান্য ভারুই। আমাদের পূর্বপুরুষের কৃতিত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকবে। পৃথিবীর মানুষ তার্জিন সম্প্রদায়ের গুণকীর্তন করবে।
    ভারুই তার্জিন রাগান্বিত হয়ে বললেন, নীলপরি অঞ্চলে বসে থাকলে কি মানুষ জানবে আমাদের ইতিহাস?
    তা কেন হবে মহামান্য ভারুই তার্জিন।  
    তাহলে তোমরা পৃথিবীর দিকে যাও। মানুষের কাছে পৌঁছে দাও আমাদের পূর্বপুরুষের ইতিহাস। ভারুই তার্জিন আবারও সূর্যালোকের দিকে তাকিয়ে নিজ কপালে তিনবার চিমটি কাটলেন। শাকু তার্জিন এবং সমগ্র তার্জিন সম্প্রদায় জিহ্বা বের করে মহামান্য ভারুইকে অভিবাদন জানালেন। তারপর হরিণের কাচা মাংসের ভোজনোৎসবে মেতে উঠলো নীলপরি অঞ্চল।

(পরবর্তী পর্ব শীঘ্রই আসবে) 


Previous Post Next Post