সাক্ষাৎকার: আগামী বিশ্বের প্রেম ও প্রকৃতির কবি



সাক্ষাৎকার:
আগামী বিশ্বের প্রেম ও প্রকৃতির কবি
এস এম সেবুল

জাতীয় পত্রিকার স্বীকৃত কবি অনন্য কাওছার বিশ্ব মাতাবেন এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে বাঁধা নেই। এই মুহূর্তে তিনি পঠিত বিশ্বব্যাপী। যারা শিল্প ও সাহিত্যের খবর রাখেন তারা সবাই অনন্য কাওছারকে চিনেন জানেন। তার উঠে আসার সূচনালগ্নে আমি মন থেকে তার পরিচর্যা করেছি। আমি আমার শাণিত চিন্তার নির্যাস দিয়েছি যা অন্যের জন্যে জুটেনি। অবশ্য অনন্য কাওছার এতদূর উঠে এসেছে ঈশ্বরের ইচ্ছা ও তার মেধার জোরে। দার্শনিক সান্নিধ্যও প্রভাব ফেলেছে তাতে সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা জাতীয় দৈনিকে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এখনও হচ্ছে এবং হবে। দ্রুতগামী তার শাশ্বত উদয়ন সবাইকে চমকে দিয়েছে। অবাক করা বিস্ময়কর প্রতিভা। বিরল প্রজাতির এই প্রাজ্ঞ প্রতিভা দুর্বিনীত অর্বাচীনদের  মোটেই পাত্তা দেন না। সার্বক্ষনিক আমার সঙ্গে রয়েছেন এই বিশুদ্ধ প্রতিভা। আছিরগঞ্জের লিটল ম্যাগাজিনে রেখে যাচ্ছেন বৈপ্লবিক স্বাক্ষর। পরিচিতি লাভ করেছেন দেশে-বিদেশে সবখানে।
কালোত্তীর্ণ লেখার সংখ্যা অনেক। আমার অন্যান্য লেখায় তার বিস্তারিত তুলে ধরেছি। ‘ঐশী আলো’র অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে— হেলেনার জন্য তৃতীয় কবিতাও একটি বিশেষ আকর্ষণ। তার প্রতিটি কবিতাই চমৎকার ও প্রকর্ষে প্রোজ্জ্বল। মানবিক, উদার, বিশ্বস্ততার পথিকৃৎ অনন্য কাওছার কাব্য জগতে দেখাচ্ছেন মুনশিয়ানা। সদর্পে বিচরণ করছেন শিল্পের শৈল্পিক মাঠে। তার উল্লেখযোগ্য কবিতা অনেক। ‘হেলেনার জন্য তৃতীয় কবিতা’ ‘যে দার্শনিক কবিতায় কবি’ ‘নীরব বিপ্লব’ ‘বেদনার রেললাইন’ ‘পৃথিবীর সবকটি পথ হারিয়ে ফেলেছি’ ‘নিসর্গজ ভাষণ’ ইত্যাদি অনেক কবিতা তাকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করেছে।
বিশ্বমানের প্রকাশিতব্য ‘মধুমিতার নরক’ ‘পাগুরুগল ও সক্রেটিস’ উপন্যাস দার্শনিক ধীমানদের মস্তিষ্কের খোরাক। প্রবন্ধ ও গল্পে তিনি সমান পারদর্শী ও সাবলীল, দুর্বার। বোদ্ধা পাঠকের চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছেন অনন্য কাওছার।
দীনতার হিংস্র আগ্রাসন বীভৎস অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে দেয় বারবার তাকে। যাবতীয় বৈরী পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে গুডবাই জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটিতে বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন করছেন। নানা অভিজ্ঞতা। অনুপ্রাস। উৎক্ষেপণ। লম্বা চুলের ব্যতিক্রমী স্টাইল দেখে মনে হয় তিনি দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ। সত্যি বলছি অনন্য কাওছার আমার দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ। তাকে নিয়ে বিস্তারিত লেখা এই ছোট প্রবন্ধে সম্ভব নয়।  অন্য কোনো লেখায় জানা যাবে তার যাবতীয় ইতিহাস। আছিরগঞ্জের অন্যতম এই শ্রেষ্ঠ তারকা প্রতিভার সাক্ষাৎকারে ওঠে এসেছে পাঠকের অজানা এক অধ্যায়। সুতরাং উপভোগ করুন। সাক্ষাৎকার নিম্নরূপ:

এস এম সেবুল: অনন্য কাওছার আপনাকে স্বাগতম। এত অল্প বয়সে প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আপনার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। আমি ইউরোপে ছিলাম সারাবিশ্বে পঠিত হয় পত্রিকা। সে হিসেবে বলতে পারি বিশ্বের কবিও আপনি। অনলাইনের সুবাদে যা সম্ভব হয়েছে। এত অল্প বয়সে বিশাল জনপ্রিয়তার পেছনের রহস্য কী?
অনন্য কাওছার: আপনাকেও গভীর শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা। প্রচুর পড়াশোনা ও গুণ-সমৃদ্ধ লেখা ছাড়া কবিদের ভিন্ন কোনো সিক্রেট আছে বলে আমার জানা নেই। সাহিত্যচর্চার প্রারম্ভের দিকেই বিখ্যাত কবিদের কবিতা পাঠে নিমগ্ন ছিলাম। শিল্পের এই সাবলীল পথে অগ্রসর হতে আপনি এস এম সেবুল প্রাণের গভীর থেকে সহযোগিতা করেছেন যা আমার চিরদিন মনে থাকবে।

এস এম সেবুল: আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও লক্ষ্য কী?
অনন্য কাওছার: মানুষের বিভিন্ন রকমের স্বপ্ন থাকে। আমারও আছে। নিজেকে আমি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

এস এম সেবুল: আপনার এই বৈপ্লবিক উত্থানের পেছনে কাদের অবদান উল্লেখযোগ্য?
অনন্য কাওছার: অনেকেই রয়েছেন। তবে বিশেষভাবে আপনি এস এম সেবুল উল্লেখযোগ্য।
এস এম সেবুল: আছিরগঞ্জের সাহিত্য নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
অনন্য কাওছার: আছিরগঞ্জের সাহিত্য সমৃদ্ধ। যা বাংলা সাহিত্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম এমন কিছু উৎকর্ষ সাহিত্য নির্যাস রয়েছে; যা বাংলা সাহিত্য তথা পশ্চিমবঙ্গেও অনুপস্থিত। আমি আছিরগঞ্জের সাহিত্য নিয়ে শতভাগ আশাবাদী।

এস এম সেবুল: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় তিক্ত অভিজ্ঞতা কোনটি?
অনন্য কাওছার: তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেক। সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে আপনি এস এম সেবুল ছাড়া কেউ আমার উত্থান  মেনে নিতে পারেনি। যা আমাকে ভীষণ ব্যথিত করেছে। কিন্তু আপনি আমাকে যথার্থ সম্মান দিয়ে আপনার সম্পাদিত বই, লিটল ম্যাগাজিনে স্থান দিয়েছেন। যা অবিস্মরণীয়।
এস এম সেবুল: জীবন সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কীরকম? 
অনন্য কাওছার : চড়াই উৎরাই শ্বাপদে বিষাদে বিপর্যস্ত হয়েও যুদ্ধজয়ের সুখানুভূতি নিয়ে ভালো আছি বিশেষ করে সাহিত্যকর্মে ডুবে থাকার কারণে অনবদ্য মনে হচ্ছে জীবন।

এস এম সেবুল: আপনার লেখালেখির পেছনে প্রধান ভূমিকা কে?
অনন্য কাওছার: আপনি আছিরগঞ্জ গণপাঠাগারে ‘মাটির মলাট’ বইটি হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলেন, কীভাবে কবিতা লিখতে হয় এই বই তার প্রমাণ।
এস এম সেবুল: কবে বই প্রকাশ করবেন?
অনন্য কাওছার: বই প্রকাশ নিয়ে ভাবছি না। নিয়মিত জাতীয় দৈনিকে লিখছি। আর আপনার সম্পাদিত বই ও লিটল ম্যাগাজিনে লিখে পরিতৃপ্ত হচ্ছি। সকল পাঠকের কাছেও সমাদৃত হচ্ছি।

এস এম সেবুল: আপনি কি কখনও ভেবেছেন এত চমৎকার লিখতে পারবেন? আর জাতীয় পত্রিকায় আপনার লেখা প্রকাশিত হবে কখনও কী ভেবেছেন?
অনন্য কাওছার: সত্যি বলতে এরকম কখনও ভাবিনি। তবে ভেতরে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল। যার জয় হয়েছে।
এস এম সেবুল: লেখালেখির ক্ষেত্রে কেউ অন্তরায় থাকলে সরাসরি বলুন।
অনন্য কাওছার: কেউ কেউ আমাকে মেনে নিতে পারেননি। যারা লেখক এবং আপনার সিনিয়রও বটে।
এস এম সেবুল: আপনি কী মনে করেন আছিরগঞ্জ থেকে আর কেউ সিরিয়াসলি বিখ্যাত হবে বা হওয়ার সক্ষমতা আছে?
অনন্য কাওছার: অবশ্যই। আপনি এস এম সেবুলের সম্ভাবনা শতভাগ। বাংলা সাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যে আপনার লেখা বিশেষভাবে মূল্যায়িত হবে বলে আমার বিশ্বাস। আপনার উল্লেখযোগ্য কালোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা অনেক।

এস এম সেবুল: লেখালেখির জগতে কোন কবির সান্নিধ্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বা যার কথা না বললেই নয়।
অনন্য কাওছার: আছিরগঞ্জের শ্রেষ্ঠ কবি এস এস সেবুল। লেখার শিল্পমান বিচারে যাকে আমি শ্রেষ্ঠ মনে করি। বাকিরা সাহিত্যকর্মী।
এস এম সেবুল: লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অনন্য কাওছার: কালোত্তীর্ণ কিছু কবিতা লিখে নিজের স্বাক্ষর রেখে যেতে চাই। আমি আশাবাদী।
এস এম সেবুল: ‘মধুমিতার নরক’ আপনার উল্লেখযোগ্য প্রকাশিতব্য শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। আমি নিশ্চিত উপন্যাসে আপনি সফল হবেন। যেহেতু আপনার পাণ্ডুলিপি আছে। উপন্যাসের দক্ষতার পেছনের রহস্য কী?
অনন্য কাওছার: বিখ্যাত লেখকদের উপন্যাস পড়েছি। প্রচুর স্টাডি করেছি। বাস্তব উপলব্ধি করেছি। এবং পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপন করার প্রয়াস চালিয়েছি মাত্র।

এস এম সেবুল: অনেক প্রেমের কবিতা আপনি লিখেছেন। আমার অনুরোধে ‘হেলেনার জন্য তৃতীয় কবিতা’ চমৎকার লিখেছেন। যা কালোত্তীর্ণ হবে। এই হেলেনাটা আসলে কে?
অনন্য কাওছার: আমার ইউনিভার্সিটির একটি বাস্তব চরিত্র।
এস এম সেবুল: আমার ভবিষ্যৎ বাণী- উভয় বাঙলায় একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ তারকা কবি হিসেবে আপনি প্রতিষ্ঠিত হবেন। এমনকি বিশ্ব আপনাকে জানবে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত। আপনার মন্তব্য কী?
অনন্য কাওছার: এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি অনন্য কাওছার নামটি একদিন ইতিহাস হবে। আপনার ভবিষ্যৎ বাণীকে আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান করি।

এস এম সেবুল: আছিরগঞ্জের সাহিত্য নিয়ে আপনার কী কোন পরিকল্পনা আছে?
অনন্য কাওছার: নিশ্চয়ই আছে। আছিরগঞ্জের সাহিত্যের ইতিহাস আমি লিখতে চাই। এই প্রত্যয় আমার মননশীল মস্তিষ্কে সর্বদা বিরাজমান। আছিরগঞ্জের সাহিত্যের ইতিহাস সারা বাঙলা তথা বিশ্বব্যাপী পঠিত হবে।
এস এম সেবুল: আপনার প্রবন্ধ বা গল্প লেখার হাত ভালো। গল্প বা প্রবন্ধের বই কী বেরোবে?
অনন্য কাওছার: নিশ্চয়ই। জাতীয় দৈনিকে যে গল্প বা গবেষনাধর্মী প্রবন্ধ ছাপা হচ্ছে নিশ্চয়ই তা বই হবে।

এস এম সেবুল: একুশে বইমেলা নিয়ে আপনার কী কোনো স্বপ্ন আছে?
অনন্য কাওছার: নিশ্চয়ই আছে। আমার প্রকাশিত বই একুশে বইমেলায় একদিন বহুল আলোচিত হবে।
এস এম সেবুল: আপনার প্রিয় মানুষ কে বা কারা?
অনন্য কাওছার: পরিবারের বাইরে অনেকেই আছেন। নাম বলা তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। বিশেষত বন্ধুবান্ধব, হেলেনা, আপনি এস এম সেবুল,জনাব সালেহ আহমদ উল্লেখযোগ্য। আপনার মত একজন বিশুদ্ধ উদারচিত্তের প্রাজ্ঞ কবি ও সাহিত্যিকের সান্নিধ্য পেয়ে আমি উপকৃত ও অভিভূত। এর বাইরে ঢাকার কবিরাও রয়েছেন। অন্যতম কবি ও সাহিত্যিক দীপঙ্কর গৌতম, জাকির আবু জাফর, মিনহাজ উদ্দীন শপথ, মীর আনিসুল হাসান, রিপন বর্মন, সালাহ উদ্দিন  মাহমুদ, বশির আহমেদ, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এস এম সেবুল: এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
অনন্য কাওছার: আপনাকেও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: ১২ মার্চ ২০২৬
সময়: রাত ১১ টা
স্থান: আছিরগঞ্জ গণপাঠাগার।
Previous Post Next Post