ব্যাচ-18 সংক্ষিপ্ত দিনলিপি

সংক্ষিপ্ত দিনলিপি 
  অনন্য কাওছার 

SSC-18 ব্যাচের জরুরি বৈঠকে আজ আমাদের বন্ধুমহলের একচতুর্থাংশের উপস্থিতি, বাকিসব ইউরোপ-আমেরিকা-মিডলইস্টে প্রবাসজীবনে ব্যতিব্যস্ত। অনেকেই প্রবাসমুখী জীবনযাত্রার চিন্তাভাবনা নিয়েই অবিশ্রান্তভাবে অষ্টপ্রহর অতিবাহিত করছেন। কেউ কেউ এখনও মনুষ্যজীবনের লক্ষ্যানুসন্ধানে বৈদগ্ধ, বিমর্ষ অতলান্তিক মহাপৃথিবীর পথে প্রান্তে। তবুও বলতে হয়, এই নাগরিক বৈদগ্ধিক বৈকালিক বৈনাশিক বৈকল্পিক জীবনের বিদেহী ব্যস্ততা পিছনে ফেলে আজকের পুনর্মিলন এবং পুনর্সজ্জার নাক্ষত্রিক বৈঠকে আমি বন্ধুমহলের উপস্থিতিতে বিমুগ্ধ, বিহ্বল। 

বলা যায়, এ যেন একরাশ তারকার হাস্যোজ্জ্বল আলোকসজ্জার মনোহর মিছিলে আমি এক নবাগত উৎফুল্ল ঢেউ, অবাক জলরাশির বিচঞ্চল তরঙ্গ। জানি, এই কাব্যিক মনোভাব ছেড়ে আমার বন্ধুমহলের পানে দুচার সহজবোধ্য বাক্যবিন্যাসের প্রয়োজন। যাইহোক। 
(নিচে আরও তিনটি ছবি আছে) 



আজ ১০ ই অক্টোবর ২০২৪ খ্রি। দখিনা বাতাসের দমকা হাওয়ার মতো একটি ম্যাসেজ ওয়াটস-অ্যাপে এলো। কে যেন বাংলিশ ভাষায় লিখলো, "সিটি শপিং কমপ্লেক্সে আজ সন্ধ্যা পরপরই বন্ধুমহলের একটি জরুরিসভা, সবাইকে আমন্ত্রণ।" যদিও লিখনী সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ছিল। আমি বিলম্ব না করেই মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার কথা ভাবছি। এরইমধ্যে এক-দুই-তিন-চার-পাঁচ করেই ক্রমাগত মেসেজ মোবাইল-স্কিনে ঢুকতে লাগলো। আমি অবাক,  হতবাক। মনে মনে ভাবলাম, "না, না, এরকম ভাবনাদীপ্ত পুনর্মিলন কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। আমাকে শতেক ব্যস্ততা রেখে পৌঁছোতে হবে জরুরিসভায়। তাই অতিবিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছোলাম। বলা যায়, আমি অবাক বিস্ময়ে একের পর এক পরিচিত সহপাঠীর উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করলাম। একি সঙ্গে হার্দিক শুভেচ্ছা ও বাক্যবিনিময়। 
 
পনেরো মিনিট পর। বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় স্ব-স্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো। আমার ভূমিকাও ছিল তুলনামূলক যৎসামান্য। বৈঠকের বিশেষ কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য ছিল। নিম্নলিখিত প্রস্তাব এবং গ্রহীত সিদ্ধান্ত: 

প্রস্তাবনা: SSC-18 ব্যাচের বন্ধুমহলের সৌহার্দ্য সুদৃঢ়করণে প্রবাসীবন্ধুমহলের প্রতি শুভেচ্ছা রেখে স্বদেশে অবস্থানরত সহপাঠীদের ভ্রমণে যাওয়া এখন হৃদয়ের আকুতি। অবারিত ঝর্ণা, সবুজ দিগন্তের ঐশ্বর্য,  প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, পাহাড়ের নীলাভ দৃশ্য এবং তুমুল মেঘের সঙ্গে আমাদেরও বিশ্রান্ত-অবিশ্রান্ত জীবনের মিশেল কিংবা হৃদয়-হৃদয়ের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়ার মোক্ষম সময়। এখনই। 

সিদ্ধান্ত: সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে জাফলং ভ্রমণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্ভাব্য তারিখ ১৬ ই অক্টোবর। 

দেখা হচ্ছে গোলাকৃতি সহজাত প্রবৃত্তির অভিন্ন সুতোয়, অভিন্ন পৃথিবীর অযৌগিক পথে প্রান্তে। স্বদেশ বহির্দেশ বহির্বিশ্বের বক্রপথে ঘুর্নায়মান বন্ধুমহলের প্রতি হার্দিক শুভেচ্ছা ও নিরন্তর ভালোবাসা, আকল্যাণ, আমোদ ফুর্তি কামনা করছি। (সংক্ষিপ্ত দিনলিপি)



Previous Post Next Post