দার্কিলান (পর্ব ০১)

 ১.
জানালার ফাঁকফোকর দিয়ে সামান্য জোছনার আলো বন্দীঘরে প্রবেশ করছে। আধো-আলোয় যতটুকু দেখা যায়, লিলি লোকটাকে ভালোভাবে দেখে নেওয়ার চেষ্টা করে। খুব পরিচিত কারো চেহারার ছাপ লোকটার চোখমুখে; অথচ সে কিছুতেই ঠাহর করতে পারছে না। ঘাড়-ত্যাড়া করে লোকটা লিলির দিকে বড়ো বড়ো চোখে তাকিয়ে আছে। ধবধবে ফর্সা চেহারা, মাথায় এলোমেলো বাবরি চুল। লোকটাকে দেখামাত্র লিলি শিউরে উঠলো। হাতে ধারালো ছুরি। কুরবানির পশু জবাই করতে সচরাচর যে ধরনের ছুরি প্রয়োগ করা হয় ঠিক সেরকম। লোকটা শ্লথ পায়ে লিলির দিকে এগোয়। কয়েক কদম এগোনোর পর দাঁত বের করে পাগলের মতো হাসে। সেকি! বাকি সবগুলো দাঁত সমান হলেও লোকটার দুপাশের দুটো অস্বাভাবিক রকমের লম্বা। ছুরির মতোও সুতীক্ষ্ণ। তলোয়ারের মতো শানিত দাঁতের আঘাতে ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে। অথচ সেদিকটায় কিঞ্চিৎ খেয়াল নেই তাঁর। যেন নিত্যকার ব্যাপার। 
        লোকটাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনেহয় না। মানসিক রোগীর মতো অস্থির এবং অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। হয়তো সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তা নাও হতে পারে। মৃত্যুর ভয়ে খুনিকে যেকারো ওরকম মনে হতে পারাটাই তো স্বাভাবিক। কারণ আমাদের মস্তিষ্ক যেরকম কল্পনা করে অথবা যেমনটা দেখাতে চায় অনেক সময় আমরা চোখ দিয়ে ঠিক তেমন ছায়ামূর্তি দেখি৷ যেকারণে খুনিকে ভিক্টিমের চোখে  ভয়ংকর মনে হতে পারাটাই তো স্বাভাবিক। যদিও এই ধারণা আমাদের মস্তিষ্ক ধারা পরিচালিত। কিছু খুনি সাধারণ। অথচ তাদের মার্ডার ইতিহাসে পৃথক আর অসাধারণে রূপান্তরিত হয়। 
       বন্দীঘরের ভেতর সিগারেটের ধোঁয়া উড়ছে।
       গন্ধটা খুব পরিচিত। 
       আর্কিল মাস্টার অহর্নিশ যে সিগারেট ফুঁকতেন, লিলির কাছে গন্ধটা ঠিক সেরকম মনে হল। লোকটার দিকে পুনরায় তাকাতেই লিলির চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। তবুও লিলি রিমিঝিমি দেখতে পেল, লোকটার ডান হাতে সিগারেট। ব্লাক সিগারেট। মাস্টার আর্কিল? লিলি কোনো প্রশ্ন কিংবা চিৎকার করতে পারছে না। তার হাত-পা এবং মুখ কাপড়ের টুকরো দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা। লিলি থরথর করে কাঁপছে। পাগলের মতো হাসতে হাসতে লোকটা লিলির দিকে এগোয়। দুই হাত দিয়ে লিলির গলা চেপে ধরে। লিলির দম বন্ধ হয়ে আসছে। তাঁর টানটান রক্তবর্ণী চোখ। লিলির জিহ্বা ফাঁসিতে ঝুলন্ত মানুষের মতো বেরিয়ে এলো। তবুও সে শ্বাপদের মতো লিলির ঠোঁটের ওপর লম্বা দুটো দাঁত বসিয়ে অধরোষ্ঠ ছিঁড়ে। ঠোঁট থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুতে দেখে লোকটা হাসতে হাসতে বলল, ভয় পাইছিস? তোর দেহ তো অনেক রাত ভোগ করেছি। এখন তুই নাপাক। অপবিত্র। তোরে ছোঁয়াও তো এখন পাপ। আমি কোনো বেইমানকে ছাড় দেই নি। সুতরাং তোকেও না। হা হা হা। 
       বন্দিঘর থেকে লোকটা একঘন্টা পর বেরোয়।
       কাঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ। 
       লিলির ডেডবডি ১৫০ টুকরো করেছে সে। কম কিংবা বেশিও নয়। চাইলে ৩৫০ টুকরো করতে পারতো। না, তাকে যে ১৫০ টুকরোই করতে হবে।
       আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার এবং একাধিক পুরস্কার প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক চেমিরেশ-এর বিখ্যাত থ্রিলার উপন্যাস 'বিষাদায়ু' থেকে এতটুকু পাঠ করে সাংবাদ সম্মেলনে একজন পাঠক প্রশ্ন করে বসলেন, স্যার। আমার প্রশ্ন ঠিক এই জায়গায়টায়। অনুমতি দিলে করতে পারি?
       কথাসাহিত্যিক চেমিরেশ মুচকি হেসে বললেন, আমার বিষাদায়ু উপন্যাস নিয়ে পাঠকমহলে কৌতূহলের অন্ত নেই। আপনার কৌতূহল কিংবা প্রশ্ন যাই বলেন তা মস্তিষ্কে উদ্রেক হওয়া কোনো দোষের নয়। নিঃসংকোচে প্রশ্ন করতে পারেন। আমি জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। 
       ধন্যবাদ স্যার। প্রথম প্রশ্ন: আপনার বিষাদায়ু উপন্যাসের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৫০। এরমধ্যে ১৫০ পৃষ্ঠা পাঠকমহল পড়তে পরেছে। মরদেহের ১৫০ টুকরোর মতো। অবশিষ্ট অংশ কেবল সাদা-পাতা রহস্য যা বাংলা সাহিত্যে প্রথম। অনেকের কাছে বিষয়টি হাস্যকরও বটে। পক্ষান্তরে অনেকের কাছে কৌতূহল। আপনার মন্তব্য কী?
      কথাসাহিত্যিক চেমিরেশ বললেন, বিষাদায়ু উপন্যাস নিয়ে যেমন আলোচনা আছে। ঠিক বিপরীতে তুমুল সমালোচনাও। সবচে বেশি যে সমালোচনা এখন অবধি হয়েছে তা উপন্যাসের পৃষ্ঠা সংখ্যা নিয়ে। অর্থাৎ অবশিষ্ট সাদা-পাতা রহস্য। তাই নয় কি?
      জি স্যার।
      বিষাদায়ু উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মাস্টার আর্কিল-এর বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত উপন্যাসটি প্রস্তুত করা হয়েছে। লিলি নামটি অপরিবর্তিত হলেও প্রধান চরিত্র 'আর্কিল' নাম খানিকটা পরিবর্তিত। এছাড়া উপন্যাসের আদ্যোপান্ত বর্ণনা শতভাগ সত্য। এখন পৃষ্ঠা সংখ্যা নিয়ে কিছু কথা বলি, আপনারা কেউ 'ভয়নিখ পান্ডুলিপি' সম্পর্কে অবগত আছেন? নিশ্চয় আছেন। ভয়নিখ পান্ডুলিপি রহস্য নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেরই জানার কথা। পৃথিবীতে যতটা রহস্য পান্ডুলিপি আছে। তাদের শীর্ষস্থান দখল করে আছে ভয়নিখ পান্ডুলিপি। যে পান্ডুলিপির রহস্য এখনও উন্মোচিত হয় নি। ভাষাবিজ্ঞানীরা এখনও সেই পান্ডুলিপি রহস্য নিয়ে গবেষণা করছেন। যদিও সে পান্ডুলিপির একটি পাতাও এখন অবধি কেউ পড়তে পারেন নি।
      চেমিরেশের কথা শেষ হতে-না-হতে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন, স্যার। ভয়নিখ পান্ডুলিপির সঙ্গে আপনার বিষাদায়ু উপন্যাসের তুলনা করতে চাচ্ছেন? 
       খানিকটা বিরক্ত হয়ে চেমিরেশ বললেন, আপনারা সাংবাদিক তিলকে তাল বানাতে উস্তাদ। আগে আমার কথাটা শেষ করতে দিন। তারপর নাহয় প্রশ্ন করুন। নিসর্গের মতো বইয়ের পাতায়ও কিছু রহস্য থেকে যায়। থেকে যেতেও হয়৷ বিষাদায়ু উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আর্কিল বর্তমানে কারাগারে আছেন। যেহেতু তিনি এখন অবধি জীবিত। সুতরাং অবশিষ্ট সাদা-পাতা পড়া নিয়ে এতো উত্তেজিত হবেন না। সময় আসুক। আমি জানিয়ে দেবো 'অবশিষ্ট সাদা-পাতা' কোন পদ্ধতিতে কীভাবে পড়তে হয়। আর কোনো প্রশ্ন? 
       একজন মহিলা সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, স্যার। দেশি-বিদেশি কিছু সাহিত্যিকের সমালোচনা ঠিক ওরকম যে 'অবশিষ্ট সাদা-পাতা রহস্য কথাসাহিত্যিক চেমিরেশের প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।' তাঁদের এই সমালোচনা নিয়ে আপনি কী বলবেন? 
       চেমিরেশ বললেন, আলোচানার চেয়ে সমালোচনা বেশি হওয়াটা কী স্বাভাবিক নয়? আলোচনার থেকে সমালোচনা বেশি থাকবে এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম। সমালোচনাকে অন্যরকম বিশেষ প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে আমি ধরে নিচ্ছি। আপনারাও ধরে নিতে পারেন। আর কিছু? 
       আরেকজন সাংবাদিক দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনি তো অতীতে প্রকাশক ছিলেন?
       ছিলাম নয়, বর্তমানেও আছি। 
       আপনি সম্ভবত বিশ বছর আগে 'বিষাদায়ু' উপন্যাস প্রকাশ করেছেন? তারপর দ্বিতীয় উপন্যাস কিংবা কোনো ধরনের বই পাঠকের সামনে নিয়ে আসেন নি। এ প্রসঙ্গে একজন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক খুব কঠিন মন্তব্য করেছেন। নিশ্চয়, আপনার কানেও তাঁর মন্তব্য পৌঁছেছে। এনিয়ে কিছু বলুন? 
       চেমিরেশ চুপচাপ বসে রইলেন। 
       সাংবাদিক মিনার আহমেদ বললেন, স্যার। কেউ কেউ তো বলছেন আপনি একটা মারাত্মক লেভেলের উপন্যাস-চুর। মাস্টার দার্কিলান সাহেবের 'বিষাদায়ু' উপন্যাস চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন। যদিও ঘটনাটি প্রায় কুড়ি বছর আগের।
       চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন চেমিরেশ। বাঁকা চোখে হায়াতের দিকে তাকান। কুচক্রীক ইশারা দেন। সতর্কতার সঙ্গে হায়াতও সম্মতি দেয়। অতীতেও বেশ কয়েকবার সাইন-ল্যাঙ্গুয়েজে পটুত্ব দেখিয়েছে সে। প্রচ্ছদ-নির্মাণে পটুত্ব, বিশ্বাসযোগ্য আর কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় কথাসাহিত্যিক চেমিরেশ তাকে প্রকাশনার কাজে রেখে দিয়েছেন। এমনকি যাবতীয় গোপনীয়তার সঙ্গী করেছেন। সম্মেলনে তুমুল হৈচৈ। গোলযোগ সৃষ্টি হবার উপক্রম। কিছু একটা বলতে যেয়েও চেমিরেশ থেমে যান। এরইমধ্যে  কয়েকজন পাঠক কথিত সাংবাদিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 
       
রাত আটটা। টেলিভিশনে একের পর এক সংবাদ। কথাসাহিত্যিক চেমিরেশের বিখ্যাত থ্রিলার উপন্যাস বিষাদায়ুকে কেন্দ্র করে সাংবাদ সম্মেলনে পাঠকের হাতে সাংবাদিক খুন। বিকেল তিনটার এক সম্মেলনে কথাসাহিত্যিক চেমিরেশের ওপর উপন্যাস-চুরির অভিযোগ তুলায় সাংবাদিক মিনার আহমেদ আক্রমণের শিকার হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা দেয়। পুলিশ অফিসার আফজাল সাহেব জানান, হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে সাংবাদিক মিনার আহমেদের খুন আর চেমিরেশের পাণ্ডুলিপির সাথে মাস্টার দার্কিলান সাহেব কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। বাকিটা খুনিদের জিজ্ঞাসাবাদের ওপর নিশ্চিত হব। যদিও খুনিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। অতি দ্রুত গ্রেফতার—
      আংশিক সংবাদ শোনে টেলিভিশন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন চেমিরেশ। সংবাদ শোনে চিন্তিত হবার কথা হলেও চেমিরেশের চেহারা বেশ উজ্জ্বল। তিনি সোফাসেটে আরাম করে বসে আছেন। 
       হায়াত। 
       জি। 
       এনিয়ে কত মুদ্রণ হল?
       সতেরো স্যার।
       বিষাদায়ু আরেক মুদ্রণ ছাপিয়ে দাও। টেলিভিশনে উপন্যাস কেন্দ্রিক যে প্রচারণা হচ্ছে। এবারেও উপন্যাসের চাহিদা ভাবনাতীত হতে পারে।
       জি আচ্ছা স্যার।
       হায়াত?
       বলুন স্যার।
       ইদানীং সাংবাদিকরা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। ওই সাংবাদিকের মতো টপ করে আরও কয়েকটা গিলতে হবে। পারবি না? 
       গিলে ফেলা তো কোনো ব্যাপারই না, স্যার। জীবনে কতো মানুষ নামের জানোয়াররে চিবিয়ে খেলাম। পুলিশ তো অনেকদূর, প্রকৃতিও টের পায় নি। টাকার বান্ডিল পেলে মুখোশ ধারি ফেরেস্তারেও এক ঢোকে গিলতে পারি। কোন শুয়োরের বাচ্চারে গিলতে হবে। আদেশ করুন। 
       কখন শিকার সামনে আসে বলা মুশকিল। দাঁত দুটো ধারালো আছে তো? 
       হায়াত বলল, বনের বাঘ কিংবা সিংহ নয়। কখনও কখনও আজগরের মতো আস্ত গিলে ফেলতেও হয়। একেবারে হাড়সুদ্ধ হজম হবে, কেবল মগজ ছাড়া। কিছু মানুষের মগজেও দূষণ আছে। এদের সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়। অজগর সাপ একটা-সময় মানুষের আপাদমস্তক গিলে ফেলতো। কিন্তু যখন তারা বুঝতে পারলো, কিছু মানুষের দূষিত মগজেও বিষক্রিয়া উৎপন্ন হয়। আজগর এরপর থেকে মানুষ জাতির দূষিত মগজ ব্যতীত, সবকিছুই গিলে ফেলে।
       সত্যি না-কি? 
       জি স্যার।
       চেমিরেশ একটা সিগারেট ধরালেন। লম্বা টান দেওয়া মাত্র একটানা কাশি আর অনেকটা অস্থিরবোধ করেন। আগে কখনও ওরকম হয় নি। ভেতরের ফুসফুস পোড়ে গেলে যেরকম বিষাদ লাগে, ঠিক সেরকম বোধ করেন। এই প্রথম হায়াতের দিকে প্রবল সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকান৷ বুকের ব্যথাস্থলে হাত দিয়ে চেপে ধরে ভাবেন, যদি হায়াত সব গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়। তাহলে? ভাবামাত্র হায়াতের কল্পিত  চেহারা তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে— লম্বা দুটো দাঁত। চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বড়ো বড়ো। হা করে টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে আছে। সন্দেহের বিষ মন থেকে মুছে ফেলে চেমিরেশ বললেন, হায়াত। এক কাপ চা বানিয়ে আনতে পারবি?
      'জি স্যার' বলে হায়াত চা বানাতে গেল।
      তিনি সিগারেট ফুঁকছেন।
      হায়াতের এই যে বারবার স্যার সম্বোধন করাটা বেশ পছন্দ করেন চেমিরেশ। তবে অতি ভক্তি চুরের লক্ষণ বলে একটা প্রবাদ আছে। সেটাও তাঁর মাথায় প্রায়শই ঘুরপাক খায়। যদিও হায়াত একুশ বছর ধরে এক সঙ্গে কাজ করছে। মাঝেমধ্যে হায়াতের কিছু এলোমেলো আচরণ চেমিরেশের মনে সংশয় সৃষ্টি করে। তবে সেটা তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয় না; বাতাসে বাতাসে তুলোর মতো ভেসে যায়।
      দরজায় করাঘাতের শব্দ আসছে। আস্তে নয়, প্রবল শক্তি প্রয়োগ করে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করলে যে ধরনের শব্দ সৃষ্টি হতে পারে। তার চেয়েও বেশি শব্দ চেমিরেশের হৃদয়ে প্রকম্পিত। পাপের প্রায়শ্চিত্ত কিংবা কখনও ভীতু প্রকৃতির মানুষ ছিলেন না তিনি। তবুও কেন জানি এখন অনুশোচনা আর সভয়ে ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে যাচ্ছেন। অনুশোচনা কিংবা প্রবল মনোপীড়ায় আঁতকে ওঠার পেছনে হয়তোবা থিহি সুলতানার ভয়াবহ মৃত্যুই যথেষ্ট। সে স্মৃতি মনে পড়তেই তিনি ভয়ে ভয়ে গুটিয়ে যাচ্ছেন। 
       সোফাসেট থেকে ওঠে চেমিরেশ দরজা খুললেন। দরজার ওপিঠে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে ওভাবে দেখার জন্য তিনি কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না। অথচ নিয়তি আরেক দৃশ্যমান ছায়ামূর্তি। 


Previous Post Next Post