অনন্য কাওছার
নিয়মিত ডিপ্রেশনের অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকলে যেকারো মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমিও সে নিয়মের ব্যতিক্রম নই। কেউ যদি গবেষণার কাজে আমার এই অকর্মা করোটি নিয়ে ল্যাবরটেরিতে অনুসন্ধান চালায়, আমি নিশ্চিত আমার এই মস্তিষ্কে কবিতা ও বিষাদলীন পদাবলি ছাড়া একটা কাজের কোনো উপসর্গ খুঁজে পাবে না। ডিপ্রেশন তবুও নিয়মিত লিখি এবং কেন যেন লিখতে হয়। ইশ্বর, হয়তোবা এই লিখালিখির জন্য আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। অন্য কোনো কারণ আছে বলে আমার বোধগম্য নয়। যাইহোক। এবার একটা 'বিড়াল ছানার' গল্প বলি।
শারীরিক অসুখের উপশমের জন্য মাসে দু-একবার জায়গায় বদল করা অভ্যেসে রুপান্তরিত হয়েছে। গতকাল রবিবারও জায়গা বদল করে একটা নবীন পরিবেশে নিজেকে আবিস্কার করলাম। কবিতার পান্ডুলিপি নিয়ে খানিকটা ভেবে নিচ্ছি। হয়তো হাবিজাবি কিছু একটা। দরজার কপাট থেকে একটা শব্দ এলো, কাছে যেতেই দেখি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিড়াল। কয়েকবার চেষ্টা করলাম কিন্তু বিড়াল মহাশয় আমাকে পাত্তা না দিয়ে চলে গেল। কেউকে খুব সহজে ঘরে ঢুকার প্রবেশাধিকার দিতে নেই। সে যদি অপরিচিত হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। রাত্রে ঘুম এলো না, ভোর চারটার দিকে একটা প্রবল চিৎকারে আধঘুমটাও ভেঙে গেল।
চিৎকারটা বিড়ালের হতে পারে ভেবে বাইরে বেরোলাম। তখনও মৃদু বাতাসে বিড়ালের শব্দ পাচ্ছি, সেই শব্দকে কেন্দ্র করেই সামনে এগোলাম। অবশেষে পরখ করলাম, বিড়ালের তিনটে বাচ্চা বটগাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে। চোখের জলে তাদের নরম গালের পশম ভিজে গেছে। মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে মানুষের বাচ্চার মতো বিপদসংকুল।
চারপাশ ভালোভাবে অবলোকন করে দেখলাম রক্তের দাগ, আমি কিছুটা বিভ্রান্ত। আঁচ করে অনুমাননির্ভর কিছু বলা এমুহূর্তে অসম্ভব প্রায়। এভাবে যতদূর পদপাতে এগোলাম, সিঞ্চিত রক্তের দাগ ছাড়া কিছুই পেলাম না। বিড়ালের বাচ্চাদের ভয়ের কারণ কী হতে পারে তা ভেবে নিচ্ছি। তাদের এমন অস্বাভাবিক আচরণ, নিশ্চয়ই অন্য কিছুর আভাস দিচ্ছে। তাদের দিকে খানিক অগ্রসর হতেই বিড়াল ছানাদের পিছু হটার প্রবণতা উপলব্ধি করলাম, তখনও সূর্যোদয় হতে অনেক বাকি।
তাদের ভয়ার্ত চোখ সেই নিরবিচ্ছিন্ন রাতে কীসের সাক্ষ্য বহন করেছে? এনিয়ে আমার হৃদয়ে কিউমুলাস মেঘ, তীব্র দহন হিমালয়ের বরফখন্ডের মতন জমে আছে।
Tags:
Short Story
